প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগে শিক্ষা কর্মকর্তার অর্থ বাণিজ্য

টাইগার নিউজ

আহসানুল করিম, বাগেরহাট :: বাগেরহাট জেলা কমিটির নির্দেশ অমান্য করে কয়েক লাখ টাকা অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে শরণখোলা উপজেলায় ১২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে ওই সকল বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীরা শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তরুুজ্জামান মিলন ও হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা বিপুল কান্তী মন্ডলের যোগসাজশে গত দু’মাসের (মার্চ- এপ্রিল) সরকারী বেতনের টাকা জনতা ব্যাংক শরণখোলা শাখা থেকে উত্তোলন করে নিয়েছে ।
সরকারী প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজির) অনুমোদন ছাড়া গত বছরের ৮ অক্টোবর শরণখোলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক, সভাপতি ও স্থানীয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সহায়তায় কম্পিউটার কম্পোজ করা বিজ্ঞপ্তি এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঠিয়ে দিয়ে জনপ্রতি ৩/৪ লাখ টাকা করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরীর অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে।সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে সরকার সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ৩৬১৮৮ জন দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগের ঘোষনা দেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয় (৩৮/০০২/০১৫/০০/০০/০২৪/২০১০ নং স্বারকের) ২০১২ সাল থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। এ নিয়ে গত ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন গন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি শরণখোলার উপজেলার ওই ১২ টি বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ না দেয়ার জন্য চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী (০৫.৪৪.০১০০.০১৮.৫২.০৫৩.১৩-৭১ নং সূত্রে ও জে প্রা শি অ/ বাগের/ ৯৩৯ নং স্মারকে) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পারভিন জাহান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শরণখোলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করে। ওই নির্দেশ না মেনে শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান মিলন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে পুনরায় জনপ্রতি প্রার্থীদের কাছ হতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে জেলা কমিটির নির্দেশের প্রতি বৃদ্বাআঙ্গুলি প্রদর্শন করে ১২ টি স্কুলের নৈশ প্রহরী নিয়োগ দেন । এভাবে নৈশ প্রহরী নিয়োগ দেয়া স্কুলগুলো হলো উপজেলার বি জানেরপাড়, রাজাপুর ডিবি পাড়, পূর্ব খাদা , দক্ষিন রাজাপুর, খুরিয়াখালী, লাকুরতলা, চালিতাবুনিয়া, সাউথখালী, দক্ষিন বাধাল সালেহা মেমোরিয়াল, চাল রায়েন্দা, ধানসাগর ইউনাইটেড ও গোলবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর এভাবে ভাগ্যবান (!) নিয়োগ প্রাপ্ত নৈশ প্রহরীরা হল মোস্তাফিজুর রহামন, মানিক হোসেন, বিজয় মিস্ত্রী, সুমন হাওলাদার, আলাউদ্দিন, কমলেস কুমার, সোলায়মান, অনিমেষ চন্দ্র, দেলোয়ার হোসেন, মিনহাজুল ইসলামসহ ১২ জনকে চুড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করেন।
উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা বিপুল কান্তি মন্ডল জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বেকায়দায় ফেলতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নৈশ প্রহরীদের দুই মাসের বেতন করে নিয়েছে। এখন থেকে ওই দপ্তরীদের বেতন বন্ধ থাকবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান মিলন জানান, নিয়ম নীতি মেনেই দপ্তরীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এখানে কো অনিয়মের আশ্রয় নেয়া বা অর্থ বানিজ্যের ঘটনা ঘটেনি ।

আপনার মতামত



close