খালেক ৭শ’ কোটি নয়, সাড়ে ৯৫ কোটি টাকা রেখেছিলেন : মনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বলেছেন, ২০১৩ সালের ১৫ জনের নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেক তার কাছে পরাজিত হন। এর আগে তিনি দলীয় কাউন্সিলর আজমল আহমেদ তপনের নেতৃত্বে থাকা মেয়রস প্যানেলের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। নির্বাচিত হয়ে মনি যখন ওই মেয়রস প্যানেলের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন তিনি নগদ আড়াই লাখ টাকা ও ব্যাংকে সাড়ে ৯৫ কোটি টাকা পেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণাকালে সম্প্রতি কেসিসি’র সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক তার দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে ৭’শ কোটি টাকা রেখে গেছেন বলে প্রচার করছেন। কথাটি সত্য নয়।
শনিবার নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, তালুকদার আব্দুল খালেক ২০১৩ সালের ৯ মে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তবে পরিষদের কাউন্সিলররা একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল ছিলেন। ওই সময়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৮নং ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর আজমল আহমেদ তপন মেয়রস প্যানেলের এক নম্বর সদস্য থাকায় আইনগত কারণেই দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে আমি বিজয়ী সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব হস্তান্তরের স্বাক্ষরিত কাগজে সিটি কর্পোরেশনের ক্যাশভোল্টে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক বিবরণী অনুযায়ী ৯৫ কোটি ৬২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮শ ৪৫ টাকা ৭৩ পয়সা স্থিতির উল্লেখ ছিল। এ সম্পর্কিত সেই দিনকার দায়িত্ব অর্পণ ও গ্রহণকারী সভায় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে মেয়র প্রার্থীরা নাগরিকদের উদ্দেশ্যে অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর এ সকল প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হলে মহানগরীর নাগরিক সুবিধা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং বিভাগীয় শহর খুলনা অর্থনৈতিক, সামাজিক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে সামগ্রিকভাবে এই এলাকার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মহানগরী উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলি টেকসই হতে হবে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে খুলনা মহানগরীকে মানুষের বসবাসের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করবো জনপ্রতিনিধিরা এ সকল বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
এ প্রসঙ্গে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, তিনি প্রায় ৭শ’ কোটি টাকার চলমান প্রকল্প রেখে এসেছিলেন। যা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে খুলনা পাল্টে যেত। সরকারের তহবিল থেকে পর্যায়ক্রমে আসা অর্থ লুটপাট হয়েছে। যথাযথভাবে কাজ না করার কারণে ফেরত চলে গেছে। দায়িত্ব পালনকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করার পর কাজ চলামান ছিল। সেসব প্রকল্পে ৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৭শ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে।

আপনার মতামত



close