হত্যার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে গলায় ফাঁস, স্বামী পলায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩০) কে গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ফাস দেন স্বামী মাসুদ রানা। এতে স্ত্রীর চোখ মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসে। এক পর্যায়ে স্বামী মনে করেন তার স্ত্রী মারা গেছে। স্ত্রীর নাক ফুল নিয়ে ওই রাতে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৯ এপ্রিল ঢাকা গাবতলী এলাকায়। টাকার অভাবে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে না পেরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারী -৯-১০ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
ফরিদা বেগম জানান, গত ৫ মাস আগে ঝিনাইদাহ শৈলকুপার এলাকার বাসিন্দা মোঃ সব্দুল মন্ডলের পুত্র মোঃ মাসুদ রানার সাথে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাকে নিয়ে ঢাকায় গাবতলী এলাকায় বসাবস করেন। বিয়ের পর থেকে স্বামী মাসুদ রানা তার বাসায় মোবাইলে কারো সাথে কথা বলতে দেন না। এর আগে ফরিদার মোবাইল ভেঙ্গে ফেলে তার স্বামী। গত ২৯ এপ্রিল তার স্বামী বাইরে থেকে এসে দেখে ঘরে মোবাইল চার্জে রয়েছে। ওই মোবাইলটি পাশের ঘরে এক ভাবির বলে তার স্ত্রী জানায়। ঘটনার দিন এ বিষয় নিয়ে তাদের সাথে ঝগড়ার এক পর্যায় ফরিদার হাত-পা দড়ি দিয়ে প্রথমে খাটের সাথে বেধে ফেলে। পরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাস দেয়। এ সময় ফরিদার চোখ লাল ও জিহব্বা বের হয়ে আসে। নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। স্বামী মাসুদ রানা মনে করে সে মারা গেছে। এ সময় তার স্ত্রী নাক ফুল খুলে নিয়ে ওই রাতে ওখান থেকে পালিয়ে যায়।
ফরিদার বোনের স্বামী শহিদুল জানান, ওই দিন ওপরে ভাড়াটিয়া তাদের মোবাইলে প্রতিবেশীরা জানান, ফরিদা মারা গেছে আপনার এসে লাশ মাটি দিয়ে যান। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌছায় দেখে ফরিদা নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ছে ও জিহ্বা বের হয়ে আছে। তাকে দ্রুত ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, সে এখনো জীবিত আছে। তাকে ওই খানে চিকিৎসার দেয়ার পর আর টাকা পয়সা না থাকায় খুলনায় নিয়ে আসি। এখানকার চিকিৎসক তাকে সিসিইউও তে রেফার্ড করেছেন।
চিকিৎসকরা জানান, তার চোখে এখনো রক্ত জমাট বেধে আছে। গলায় ফাস দেয়ার চিহৃ পাওয়া গেছে।

আপনার মতামত



close