ডিলারদের পণ্য তুলতে অনিহা

নিজস্ব প্রতিবেদক

টিসিবির চেয়ে খোলা বাজারে ছোলা, চিনির মূল্য কেজি প্রতি ২ টাকা কম। তাছাড়া সীমান্তবর্তী শহর সাতক্ষীরা, যশোর ও কুষ্টিয়ায় ভারতীয় চিনিতে বাজার সয়লাব। খেজুরের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মসুরের ডাল কোন দেশের তা ডিলারদের কাছে এখনও স্পস্ট নয়। সবমিলিয়ে লোকসান এড়াতে ডিলাররা টিসিবি’র পণ্য তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। রোববার থেকে টিসিবি’র পণ্য বিকিকিনি শুরু হবে।
সাতক্ষীরার কদমতলা এলাকার ডিলার শেখ সিরাজুল ইসলামের দেওয়া তথ্য মতে, জেলা সদর ও উপজেলার বিভিন্ন মোকামে ডাল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, চিনি ৫২ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে টিসিবি’র এসব পণ্যের মূল্য গড়ে ২ টাকা বেশি। পরিবহন খরচ, কর্মচারীর বেতন, ব্যাংকের চালান জমা দেওয়া ও খুলনার খালিশপুর থেকে পণ্য তুলতে খরচ বেশি পড়ে। গত কয়েক বছর লোকসান দিতে হয়েছে। একই বক্তব্য যশোরের কেশবপুর উপজেলার ডিলার আশরাফ আলী ও গোপালগঞ্জের বুলবুল এন্টারপ্রাইজের। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি মোকামের পাইকারী ব্যবসায়ী প্রতাপ দাস জানান, এ অঞ্চলে ধবধবে সাদা চিনির প্রতি ক্রেতার আগ্রহ নেই। লালচে রংয়ের চিনির চাহিদা বেশি।
টিসিবি’র স্থানীয় সূত্র জানান, প্রতি কেজি চিনির মূল্য ৫৫ টাকা, ছোলা ৭০ টাকা, মসুরের ডাল ৫৫ টাকা, সয়াবিন প্রতি লিটার ৮৫ টাকা ও খেজুর ১২০ টাকা কেজি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোক্তার সুবিধার্থে ২/১ দিনের মধ্যে মূল্য কমার ঘোষণা আসতে পারে। গত বারের চেয়ে মূল্যের হেরফের হয়নি।
কর্পোরেশনের খুলনাস্থ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল মোর্শেদ জানান, খুলনা নগরীতে ৫টি ট্রাক এবং ১৩ জেলায় ২৬টি ট্রাক ভ্রাম্যমান হিসেবে পণ্য বিক্রি করবে। এছাড়া ১৪ জেলায় ৪৫৬জন ডিলার কর্পোরেশনের এ পণ্য বিক্রি করবে। ইতিমধ্যেই ৩৫১ মেট্টিক টন চিনি, ২৭৩ মেট্টিক টন মসুরের ডাল, ৩২৫ মেট্টিক টন ছোলা ও ১ লাখ লিটার তেল মজুদ করা হয়েছে। কর্পোরেশনের খুলনাস্থ সদর দপ্তরেও ভোক্তার সুবিধার্থে এসব পণ্য খুচরা বিক্রি করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে টিসিবির সরবরাহকৃত খেজুর অনুন্নতমানের হওয়ায় দু’ শতাধিক ডিলার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে। ওই সময় তাদের বড় অংকের টাকা খেজুরে লোকসান দিতে হয়।

আপনার মতামত



close