গণগ্রেফতার বন্ধ না হলে সিইসি’র অনুষ্ঠান বয়কটের হুমকী মঞ্জু’র

Tiger Logo T
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণগ্রেফতার অব্যহত থাকলে আগামী ৬ মে খুলনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) অনুষ্ঠান বয়কটের হুমকি দিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে (কেসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কেডিঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংকালে  তিনি এ কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে মাথায় কাফনের কাপড় পরে নেতা-কর্মীরা জনগনের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনবে। কোন ভাবেই আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। এর আগে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশীর নামে পুলিশের হয়রাণির প্রতিবাদে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পেরে বৃহস্পতিবার কয়েক ঘন্টার জন্য নির্বাচনি গণসংযোগ বন্ধ রাখেন মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত নগরজুড়ে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়োজিত বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদ ও যুবদল নেতা মাহবুব হাসান পিয়ারুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ২১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া অসংখ্য নেতাকর্মীর বাড়িতে তল্লাশির নামে আতংক সৃষ্টি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও ডিবি পুলিশ হুমকি দিয়েছে।
মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, বুধবার রাত ৮ টা থেকে সারা রাত পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তান্ডব চালিয়েছে। সারা রাত আমাদের নেতাকর্মীরা নির্ঘুম কাটিয়েছেন। আমি রাতেই রিটার্ণিং অফিসার ও পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু কেউ আমার ফোন ধরেনি। ভয়ার্তভাবে আমার নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার ভোরে আমার বাড়িতে এসেছে। আমি তাদের বলেছি, আমরা কোন অবস্থাতেই নির্বাচন থেকে সরে যাব না। এই শহরের মানুষ আমাদের সাথে আছে। বর্তমান সরকার চরম ইমেজ সংকটে আছে। এই ইমেজ সংকট কাটাতে আমাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি জোরালো কন্ঠে ঘোষণা করেন,কোন দমন পীড়ন,গ্রেফতার-হয়রানীতে ধানের শীষের নেতা কর্মীদের নির্বাচন থেকে সরানো যাবে না। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ শহরের প্রান্তসীমা গল্লামারীতে এবং রুপসা ব্রিজ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে ষড়যন্ত্রমূলক সভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা খুলনায় এসে প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, জনতার বিজয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ নির্বাচনে খুলনার জনগণ আমাদের পাশে আছে,আর সরকারী দলের পাশে আছে তাদের অনুগত পুলিশ বাহিনী,প্রশাসন,দলীয় ক্যাডার আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। তিনি এসব কর্মকান্ড বন্ধ করে সরকারকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সিটি নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আপনাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। তিনি অবাধ,সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান, নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগাঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান আলিম, ইকবাল হোসেন, এনপিপি’র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিজেপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আঃ মতিন সাঈদ, সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ, ডিএল’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাপ’র মহাসচিব এম সেলিম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, জমিয়াতুল উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র মহাসচিব মুফতি মুহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিঙ্কন, জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপি’র ভারপ্রাপ্ত  মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, খুলনার ২০ দল নেতাদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা এমরান হুসাইন, এ্যাড. লতিফুর রহমান লাবু, মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, গোলাম মোস্তফা, মাওলানা নাসির উদ্দিন, সিরাজ উদ্দীন সেন্টু, এ্যাড. আকতার জাহান রুকু, এ্যাড. শাহ আলম, গোলাম রসুল, বিএনপি নেতা সৈয়দ নার্গিস আলী, মুজিবর রহমান, গাজী আলাউদ্দীন, আমীর এজাজ  খান, মীর কায়সেদ আলী, ডাঃ গাজী আব্দুল হক, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ মোশাররফ হোসেন, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম মেঝভাই, কওসার জমাদ্দার, স ম আব্দুর রহমান, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, মোঃ ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মনিরুল হাসান বাপ্পী, আমজাদ হোসেন, আরিফুজ্জামান অপু, মনিরুজ্জামান মন্টু, শেখ আব্দুর রশিদ, আবু হোসেন বাবু, কামরুজ্জামান টুকু, আশারফুল আলম নান্নু, ইকবাল হোসেন খোকন, নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, শরিফুল ইসলাম বাবু ও হেলাল আহমেদ সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিং শেষে নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে নামেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতা-কর্মীরা গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

আপনার মতামত



close