আজ পহেলা মে : শ্রম হাটে চাঁদাবাজি

Tiger Logo T
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার মোস্তর মোড় এলাকায় শ্রমহাটে হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চলছে চাঁদাবাজি। গ্রাম থেকে আসা ভাসমান শ্রমিকদের (মজদুর) জিম্মি করে এখানে মাথাপিছু চাঁদা আদায় করা হয়। ইউনিয়নের দাবী করা টাকা দিলে হাটে শ্রমিকদের বসতে দেয়া হয়। প্রায় ক্ষেত্রে তাদেরকে হাট থেকে বের করে দেয়া হয়।
জানা যায়, খুলনার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২শ’ ভাসমান শ্রমিক মাটিকাটা, ধানকাটা, রাজযোগালী, ঘরামিসহ বিভিন্ন কাজের খোঁজে মোস্তর মোড় শ্রমিকহাটে আসেন। গ্রামের সহজ-সরল লোক হওয়ায় তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে নসিমনে করা আসা শ্রমিকদের দলপ্রতি ৬ থেকে ৭শ’ টাকা আদায় করা হয়।
অস্থায়ী ফুলতলা উপজেলার মিয়াজ উদ্দিন জানান, কাজের খোঁজে হাটে আসার প্রথমদিন তাকে সদস্য বানানোর নাম করে ১৬০ টাকা ও অন্য খরচ বাবদ ২শ’ টাকা নেয় হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন। টাকা নেয়ার কোন রসিদ না দিয়ে তাকে একটি সদস্যপদের পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে টাকা দিতে না পারলে তাকে হাটে বসতে দেয়া হয়না।  শোভনা গ্রামের অস্থায়ী শ্রমিক মন্টু মোড়ল জানান, ইউনিয়নের নামে তাদের দলে থাকা ১২ শ্রমিকের কাছ থেকে সপ্তাহে দুইশ’ টাকা করে কেটে নেয়া হয়। প্রতিবাদ করলে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে হুমকি দেয়া হয়।
তবে চাঁদা আদায়ের কথা অস্বীকার করে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল শেখ সাংবাদিকদের জানান, আগে নসিমন প্রতি টাকা আদায় করা হতো, কিন্তুএখন বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্থ হলে, কারো মজুরী আটকে গেলে বা  দুর্ঘটনা কবলিত শ্রমিকদের সাহায্য করে ইউনিয়ন। টাকার বিনিময়ে প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে পরিচয় পত্র দেয়া হয়। পরিচয় পত্রের নম্বর দেখে তাদের উপকার করি আমরা, এ ছাড়া আর কোন টাকা নেয়া হয় না। তবে এই পরিচয়পত্র দেখিয়ে শ্রমিকরা কখনো কোন সুবিধা পায়নি বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত



close