কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামির জামিন বাতিল

Tiger Logo T
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি এনামুল হক টিটোর জামিন বাতিল করেছে আদালত। রোববার শুনানী শেষে ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সাইদুল ইসলাম এ জামিন বাতিল করেন। একই সাথে তিনি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারী করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম ও বিচার শুরুর জন্য মামলাটি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ব্লাষ্ট খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ২০ এপ্রিল শুনানী শেষে ম্যাজিষ্ট্রেট আসামি টিটোর জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। ওই ঘটনায় বাদী পক্ষে ব্লাষ্ট থেকে দেওয়া আইনজীবী আদালতে হাজির না হওয়ার কারণে বাদী আইনজীবী পরিবর্তনের দাবি জানায়। ফলে ওই আইনজীবী ফজলুর হক বাবুকে এ মামলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি ব্লাষ্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সারা হোসেন ঢাকা থেকে মনিটরিং করছেন। রোববার ধার্য্য দিনে ব্লাষ্ট খুলনা ব্লাষ্টের আইনজীবীরা সম্মিলিত আদালতের কাছে আসামি টিটোর জামিন বাতিলের আবেদন জানায়। শুনানী শেষে জামিন বাতিল ও আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়।
ধর্ষিত কলেজ ছাত্রী জানান, ২০ এপ্রিল আসামি টিটো জামিন পাওয়ার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এর ফলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। রোববার শুনানী শেষে আসামির জামিন বাতিল হয়েছে। এখন পুলিশ দ্রুততার সাথে আসামিকে গ্রেফতার করে বিচারের জন্য সোপর্দ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
মামলাটি পরিচালনায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্লাষ্টের আইনজীবী নিরঞ্জন কুমার ঘোষ, অশোক কুমার সাহা, ফাতেমা খন্দকার রীমা, ফারহানা শিউলী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ইজিবাইকে হঠাৎ পরিচয়ের সূত্র ধরে ১৬ জানুয়ারি খুলনার আহসান উল্লাহ কলেজের ¯œাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে মা সম্বোধন করে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে আসামী এনামূল হক টিটো। এরপর ১৯ জানুয়ারি কৌশলে সোনাডাঙ্গার একটি বাসায় ডেকে নিয়ে মেয়েটিকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনার পর কলেজ ছাত্রী যাতে মামলা করতে না পারে সে জন্য নানা কৌশল নিয়ে সময়ক্ষেপন করা হয়। এক পর্যায়ে ১৫ মার্চ কলেজ ছাত্রী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। এরপর ওইদিনই পুলিশ মামলার আসামী মহানগরীর মৌলভীপাড়া এলাকার এনামূল হক টিটো গ্রেফতার করে। সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের পর আদালতে তা’ পরিচালনার জন্য ব্লাস্টের কাছে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করে মেয়েটির অসহায় ও দরিদ্র পরিবার। ব্লাস্ট থেকে বিষয়টি গুরুত্বে সাথে নিয়ে এ্যাডঃ ফজলুর হক বাবুকে সহায়তা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০ এপ্রিল ধার্য দিন সকালে তার সাথে দেখা করে শুনানীতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানায় ধর্ষিতার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ওই আইনজীবী মেডিকেল রিপোর্ট ও এজাহার ভালো হয়নি বলে মন্তব্য করেন এবং তিনি জামিন শুনানীর সময় অনুপস্থিত থাকেন। এর ফলে বিনা আপত্তিতে আসামি টিটোর জামিন আবেদন আদালতে মঞ্জুর হয়।

আপনার মতামত



close