পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

Tiger Logo T
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্ত্রী নাছরিন আক্তার রুমার ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এমনকি এই পুলিশ কর্মকর্তা নিজ স্ত্রী এবং তার ভাইকে (শ্যালক) হত্যা করতে ৫ লাখ টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করেছেন। মামলা তুলে না নিলে ‘এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু’র মত পরিণতি বরণ করতে হবে- মর্মে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী রুমা এ অভিযোগ করেন। স্বামীকে গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি। পুলিশ কর্মকর্তা রেফায়েত উল্লাহ বর্তমানে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে ক্লোজড রয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে নাছরিন আক্তার রুমা বলেন, চোরাকারবারী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন পুলিশ পরিদর্শক স্বামী রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী। একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন একাধিক পরকীয়া। এসবের প্রতিবাদ করায় চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। কেড়ে নেওয়া হয়েছে দুই মেয়েকে।
তিনি জানান, ১৯৯৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার লাকসাম থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরীর সাথে তার বিয়ে হয়। দুই বছর আগে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় রেফায়েত মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত হয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। ওই সময় তিনি হ্যাপী চৌধুরী নামের এক নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। বিষয়গুলো জানার পর প্রতিবাদ করায় তার উপর দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। হ্যাপী চৌধুরীও হয়রাণী শুরু করে।
কান্না জড়িত কণ্ঠে রুমা বলেন, ‘নির্যাতনের কথা শুনে আমার বৃদ্ধ পিতা চট্রগ্রামে আমার বাসায় গেলে তাকেও রেফায়েত নির্যাতন করে, বৃদ্ধা বাবা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হার্ড এ্যাটাক করে মৃত্যু বরণ করেন। আমি আমার বাবার মৃতদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসি এবং দাফন কার্য সম্পাদন করার পর মেয়েদের কথা চিন্তা করে ঘর-সংসার সুষ্ঠুভাবে করার জন্য স্বামীর সাথে চট্রগ্রাম চলে যাই। কিন্তু এরপরও আমার কাছ থেকে আমার দুই মেয়ে রাইসা ও নানজীবাকে কেড়ে নেয়। আমার সব গহনা ও অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে আমাকে মারধর করে, পরে কুমিল্লার এএসপি আমাকে নিরাপত্তার স্বার্থে বাপের বাড়ি খুলনার খালিশপুরে চলে আসতে বলায় আমি এক কাপড়ে চলে আসি’।
তিনি অভিযোগ করেন, রেফায়েত এতোটাই লম্পট যে তার সঙ্গে বিয়ের আগেও সে বহু নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত ছিলো। যশোর কোতয়ালী থানায় এসআই পদে চাকরী করা অবস্থায় নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা তিনি নিজে উপস্থিত থেকে মিটিয়ে দেন। কিন্তু সন্তানদের কথা চিন্তা করে মুখ বুজে সব সহ্য করেন। তাতেও রেফায়েত শান্ত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ১৮ জানুয়ারী খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে রেফায়েত তাকে ও তার ভাই মোঃ মনিরুজ্জামানকে হত্যার জন্য হুমকি দিয়ে চলেছে। এমনকি সন্ত্রাসীও ভাড়া করেছে ৫ লাখ টাকা দিয়ে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য সে খুলনায় এসে হুমকি দিয়েছে। সে বলেছে, ৩০ তারিখ মামলার ধার্যদিনে জেলে গেলে ‘এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু’র কাহিনী বানিয়ে ছাড়বো।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা রেফায়েত উল্লাহ স্বল্প সময়ের চাকরি জীবনে কিভাবে কোটি কোটি টাকা, ফ্লাট বাড়ি ও অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তা খতিয়ে দেখতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আপনার মতামত



close