ব্যবসায়ীদের আমরণ অনশনের হুমকি

Tiger Logo T
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা মহানগরীর কাস্টম ঘাট এলাকা থেকে নৌযান মেরামত কারখানা ও নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়া হলে আমরণ অনশন করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা কাস্টমঘাট ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসী এ ঘোষণা দেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযোদ্ধা মো. শহীদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খুলনায় দেশের সর্ববৃহৎ নৌযান মেরামত কারখানা ও নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু অতীব কষ্টের বিষয় সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে খুলনা নগরীর কাস্টম ঘাট এলাকাকে বেছে নেয়া হয়েছে। এজন্য নদীর তীরের রকি ডকইয়ার্ড থেকে উত্তর দিকের ৬শ’ মিটার দৈর্ঘ্য প্রায় তিন একর জায়গা ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল এই ইজারা দলিলে স্বাক্ষর করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান এবং যানবাহন অধিদপ্তরের পরিচালক মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। কাগজে-কলমে ওই দিনই জমির দখল তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ৫০বছরের অধিকাল ধরে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্র। এ এলাকার ব্যবসায়ীরা বহু কষ্ট ও অর্থের বিনিময়ে জমিকে উন্নত করে ব্যবসার উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছেন। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইট, বালু, সিমেন্ট, পাথর, কয়লা, কাঠসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই বৃহৎ ব্যবসায়ী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভরণ-পোষণ করছেন। এসব ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লগ্নি রয়েছে। বাকী পাওনা রয়েছে লাখ লাখ টাকা। ব্যাংক ঋণ নিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। কিন্তু ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে এসব ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হলে তারা সর্বশান্ত হয়ে পড়বে। লগ্নিকৃত অর্থ আদায় ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। এছাড়া ২২ নং ওয়ার্ডের এই অঞ্চলটি শ্রমিক অধ্যুষিত। এখানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। যা অচিরেই চালু হবে। এখানে নৌযান মেরামত কারখানা ও নৌযান শ্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হলে লোহালক্করের শব্দে হাসপাতলের রোগীরা সুস্থ্য হওয়ার পরিবর্তে আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভৈরব নদের পাড়ে অবস্থিত টুটপাড়া মৌজার এই জমির দাম রয়েছে ৫৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। কিন্তু মাত্র এক লাখ এক হাজার টাকা প্রতীকি মূল্যে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অনুকূলে এই দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই দলিল বাতিল করে ব্যবসায়ীদের অনুকূলে এই জমি ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দিলে তারা ৫৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিতে রাজি আছেন এই টাকা সরকার অন্য কোন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার খলিফা, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহবুব কায়সার, মুক্তিযোদ্ধা মো. ওহিদুজ্জামান, খুলনা জেলা সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াকুব আলী খান পলাশ, সাবেক কাউন্সিলর কণিকা সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত



close