প্রাচীন কৃষ্ণচুড়া গাছটি কেটে ফেলা হচ্ছে

Tiger Logo T
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরের ৫০ বছরের বেশি প্রাচীন একটি কৃষ্ণচুড়া গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। শনিবার ভোরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের তদারকিতে এ গাছ কাটা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, অ্যাড. অরুন কুমার ব্যানার্জী, পরিবেশবিদ আব্দুল হামিদসহ কয়েকজন জানান, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ৫০ বছরের প্রাচীন কৃষ্ণচুড়া গাছটির ডাল কাটতে দেখে অবাক হয়ে যান। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দোতলায় ডিএসবি অফিসের বারান্দায় সাদা টুপি পরিহিত এক পুলিশ সদস্যসহ গাছের নীচে নীচে গাছের গোড়ায় দাঁড়িয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম ছাড়াই গাছ কাটা তদারকি করছিলেন। একে একে গাছটির সকল বড় ডাল দা ও কুড়াল দিয়ে কেটে ন্যাড়া করে ফেলা হয়। পরে করাত দিয়ে বড় বড় ডালগুলো ছোট ছোট করে ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কাঠালতলায় মজুত করে রাখা হয়। জানতে চাইলে পরিচয় গোপন রেখে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি বলেন, গাছটি বুড়ো হয়ে গেছে তাই উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে কাটা হচ্ছে। কিছুদিন পরে মারা গেলে গাছটির গোড়া ও গুড়ি সরিয়ে ফেলা হবে।
তারা আরো জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বকুল গাছ ও কৃষ্ণচুড়া গাছটি ওই কার্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছিল। তা ছাড়া এ গাছ কোন ক্ষতি করে না। গাছটির সকল বড় ডাল কেটে ফেলার পরে কৃষ্ণচুড়া গাছটি বাতাস থেকে পাতার মাধ্যমে অক্সিজেন সংগ্রহ করতে না পেরে খুবশীঘ্রই মারা যাবে। তখন ওই কৃষ্ণচুড়া গাছটির গোড়া তুলে সরিয়ে ফেলা হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। গাছ কেটে ফেলার এ উদ্যোগ তাদেরকে ব্যাথিত করেছে বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম আরিফুল ইসলাম শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা ২৩ মিনিটে এ প্রতিবেদকে জানান, গাছ কাটা হয়েছে এমন খবর তার জানা নেই। কে বা কারা কেটেছে সেটা জানা আছে কিনা তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

আপনার মতামত



close