‘নিজামুদ্দিন দরগার দুই ধর্মগুরু আইএসআইয়ের গোপন আস্তানায়’

টাইগার নিউজ

image-24798পাকিস্তানভিত্তিক মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম)সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে দিল্লির হযরত নিজামুদ্দিন দরগার দুই ধর্মগুরুকে আটক করা হয়েছে। ধর্মগুরু সৈয়দ আসিফ আলী নিজামি ও নাজিম নিজামিকে পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের গোপন আস্তানায় নিয়ে গিয়েছেন বলে দেশটির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

জানা যায়, পাকিস্তানের করাচিতে বোনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিল আসিফ নিজামির। সঙ্গে ছিলেন ভাইপো নাজিম। করাচির আগে লাহোরে সুফি সন্ত বাবা ফরিদ গংয়ের দরগায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুজনে।

বৃহস্পতিবার তাদের ‘নিখোঁজ’ হওয়া নিয়ে হইচই শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সরব হয় দিল্লি প্রশাসন। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ওই দুইজনকে আটক করেছে বলে আগেই ধারণা করেছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।

অবশেষে পাকিস্তানের সরকারি সূত্রে জানানো হয়, ‘ওই দুইজনকে লাহোরের আল্লামা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করাচিগামী বিমান থেকে নামানো হয়। এরপরে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান গোয়েন্দারা।’

আরও জানানো হয়, এমকিউএম-এর সঙ্গে ওই দুই ধর্মগুরুর যোগ আছে বলে ধারণা আইএসআইয়ের। সে জন্যই তাদের জেরা করা হচ্ছে। কোনও প্রমাণ পাওয়া না গেলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

download১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময়ে ভারত থেকে পাকিস্তানে যাওয়া মানুষকে নিয়ে তৈরি এমকিউএম সিন্ধুপ্রদেশে বিশেষ প্রভাবশালী। করাচিসহ সিন্ধুর নানা শহরে সহিংসতার পিছনেও তাদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ পাকিস্তান সরকারের।

ইসলামাবাদের দাবি, এমকিউএম-কে গোপনে মদত দেয় ভারত। গত বছর এমকিউএম নেতা আলতাফ হুসেনের পাকিস্তান-বিরোধী এক বক্তৃতার পরে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে আবারো বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে দেশটির সরকার।

সরকারি ভাবে অবশ্য দুই ভারতীয় ধর্মগুরুকে নিয়ে এখনও স্পষ্ট ভাবে কিছু জানায়নি পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়ার দাবি, ‘এখনও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সরকার।’

এদিকে টুইটারে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যোগাযোগ করা হয়েছে করাচিতে সৈয়দ নিজামির বোনের সঙ্গেও। তবে সুষমার দাবি, লাহোর নয়, করাচি বিমানবন্দরে নামার পরেই ওই দুইজন নিখোঁজ হয়ে যান।

জানা যায়, হজরত নিজামুদ্দিন দরগার প্রধান মওলানা সৈয়দ আসিফ আলি নিজামি ও তার ভাইয়ের ছেলে নাজিম নিজামি পাকিস্তানে গিয়েছিলেন সেখানকার কয়েকটি দরগায় চাদর চড়াতে আর কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে।

নিজামির পুত্র সাজিদ আলি নিজামি জানিয়েছেন, ‘প্রথমে করাচি থেকে লাহোরে গিয়ে বাবা ফরিদের দরগায়, তারপরে আরেকটি সুফি দরগা দাতা দরবারে চাদর চড়ান। সেখান থেকে করাচির বিমান ধরতে লাহোর বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। কর্মকর্তারা কিছু নথিপত্র পরীক্ষার জন্য সেখানে আমার ভাইকে আটকান। বাবাকে বিমানে চড়তে বলা হয়। তারপর থেকেই আর খোঁজ নেই। দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ।’

সূত্র : ঢাকাটাইমস

আপনার মতামত



close