আসছে পাটপাতার চা

টাইগার নিউজ

image-23887বাংলাদেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহারের আরেক উদ্ভাবন পাটপাতার চা। ইতোমধ্যে এই চা বিদেশে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে। আর দেশের বাজারে এ চা পাওয়া যাবে জুন মাসে।

পাটের চা বাজারজাত করছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি)। তাদের সহায়তা করছে ওয়ার্ছি অ্যাকুয়া এগ্রো প্রতিষ্ঠান। পাটপাতার চা তৈরির পর এর রং দেখায় হালকা সবুজ। এ চায়ের নাম ‘মিরাকল অর্গানিক গ্রিন টি’ দেয়া হয়েছে বলে জানান ওয়ার্ছি অ্যাকুয়া এগ্রো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এইচ এম ইসমাইল খান।

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার উদ্বোধনী দিনে সাংবাদিকসহ দর্শনার্থীদের ‘পাটপাতার চা’ পরিবেশন করা হয় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন স্টলে।

স্টলে পাটপাতার চায়ের পাশে একটি সাদা আর্টপেপারে উৎকীর্ণ- “পাটপানীয়’- পাট পাতা দিয়ে তৈরি চা একটা অলৌকিক পানীয়। এ পানীয় বহু প্রকার রোগের নিবারণ ও প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। রক্তচাপ ও ব্লাড ক্লোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ, চর্মরোগ, দৃষ্টিশক্তি, আমাশয়, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, কোষ্টকাঠিন্য, আলসার প্রভৃতি রোগের জন্য এ চা অত্যান্ত উপকারী।”

রাজধানীর হাতিরপুল থেকে আসা গৃহিণী তাছলিমা বেগম পাটপাতার চা পান শেষে বলেন, ‘মাথাটা আমার ব্যথা করছিল। পাটপাতার চা খেয়ে মনে হচ্ছে মাথাব্যথা চলে গেছে। মাথাটা হালকা লাগছে।’

এ সময় সেখানে ‍উপস্থিত যারা চা খেয়েছেন, সবাই প্রশংসা করেন চায়ের। কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন কেউ কেউ। কিন্তু বিক্রির জন্য নয় বলে কেনা হয়নি কারো।

ইসমাইল খান বলেন, ‘আমরা জার্মানিতে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েক কেজি পাটপাতার চা পাঠিয়েছি। বাংলাদেশের বাজারের জন্য ১০০ টাকা ও ৫০ টাকা দুটি প্যাকেট করা হয়েছে। আগামী জুন থেকে এটা বাজারে পাওয়া যাবে।’

পাটপাতার চা বানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসমাইল খান বলেন, এক লিটার পানিতে টেবিল চামচের এক চামচ পাটপাতার চা দিয়ে তিন মিনিট ফুটাতে হবে। এরপর দুই মিনিট বন্ধ করে রাখতে হবে। এতে করে নিচে জমে যাবে পাতার গুঁড়াগুলো। এরপর মধু বা চিনি দিয়ে চা পান করা যাবে।

এই চা গ্রিন টির মতো বলে জানান ইসমাইল খান। গ্রিন টি চায়নার তৈরি। আর এটা বাংলাদেশের তৈরি। তিনি দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বলেন, গ্রিন টির চেয়ে ভালো কাজ করবে ‘পাটপাতার চা’। গ্রিন টি কী দিয়ে তৈরি সেটা তো আপনারা দেখেন না। আর এটা ‘পাটপাতা দিয়ে তৈরি’ সেটা আপনারা জানেন।

এক দর্শনার্থী জানতে চান যারা পাট চাষ করে, তারা কি পাটপাতা দিয়ে চা বানাতে পারবে কি না। জবাবে ইসমাইল খান বলেন, ‘পাটগাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করে সেগুলো ধোয়ার পর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় শুকাতে হয়। এরপর তা গুঁড়ো করা হয়। আপনারা বানালে হয়তো তাপমাত্রার তারতম্য হতে পারে। তবে কাজ একই করবে।’

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে তিন দিনের বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা শনিবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দর্শনার্থীদের বিপুল আগ্রহের কারণে তা বাড়ানো হয়েছে আরো দুই দিন। আজ সোমবার শেষ হবে মেলা।

পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)’ এ মেলার আয়োজন করে। মেলায় পাটপণ্যের ৬১টি স্টল রয়েছে, যেখানে পাটের পলিথিন, পাটের টিন থেকে শুরু করে আকর্ষণীয় নানা পণ্য প্রদর্শণ করা হচ্ছে।

সূত্র : ঢাকাটামইস

আপনার মতামত



close