কুষ্টিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে বাজারাজত করছে দুই ব্যবসায়ী

টাইগার নিউজ

20161206_163637বাতিল ও ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে (রিফিল) বাজারে ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া শহরের দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। শহরের কালিশংকরপুরের বাসিন্দা দুই সহোদর রাজু ও তাজুর মালিকানাধীন ৫টি প্রতিষ্ঠানে গত এক বছর ধরে এ অপকর্ম চালানো হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ওই দুই ব্যবসায়ীর কালিশংকরপুরের বাড়িতে পুরনো সিলিন্ডার রং করার সময় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে তাদের ৫০হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের কালীশংকরের বাসিন্দা দুই ভাই রাজু ও তাজু চট্টগ্রামে বিভিন্ন মার্কেট থেকে পরিত্যাক্ত সিলিন্ডার কিনে কুষ্টিয়াতে নিয়ে আসে। পরে তাদের বাড়িতে এসব সিলিন্ডার রেখে তাতে রং এর প্রলেপ দিয়ে চকচকে করে তাতে যমুনা গ্যাসের নাম লেখা হয়। এসব সিলিন্ডার যমুনা গ্যাসের ডিপোতে নিয়ে তাতে গ্যাস ভরে এনে বাজারজাত করা হয়। জানা যায়, বাংলাদেশের এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। কিন্তু অসাধু এই চক্রটি মাত্র ৪-৫শ’ টাকা দরে চট্টগ্রামের মাজার থেকে পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করছে। এতে তারা ক্রেতাদের কাছে তুলনামুলক কম দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলপি গ্যাস বিক্রেতা জানান সিলিন্ডারসহ গ্যাস বিক্রি করা হয় ২১শ থেকে ২২শ’ টাকায়। তবে রাজু ও তাজু প্রতিষ্ঠান থেকে কমমুল্যে সিলিন্ডার কেনায় তারা ১৯শ’ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যেই সিলিন্ডারসহ গ্যাস বিক্রি করে আসছে। এতে শহরের অন্যান্য গ্যাস বিক্রেতারা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অপর এক ব্যবসায়ী জানান, যমুনা গ্যাস কোম্পানীর লোকজনও এই অবৈধ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত রয়েছে। কমদামে গ্যাস বিক্রি করায় যেমন রাজু ও তাজু ভ্রাতৃদ্বয় লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে তেমনি যমুনা গ্যাস কোম্পানীর গ্যাস বিক্রি বাড়ছে বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। জানা গেছে, রাজু ওতাজুর মালিকানাধীন শহরের এনএস রোডে রাজু সাইকেল স্টোর, আলীফ ও আখলাক নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও একই সড়কের লাল মহাম্মদ তেলকল, টিকেপাড়া মসজিদ ও কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়াম এলাকার একটি দোকানে এই গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।
20161206_125441কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এধরনের কর্মকান্ড অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময় পুরনো গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে প্রাণহানীসহ বড়ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এতের ভ্রাম্যমান আদালতে সামান্য জরিমানা করে ছেড়ে দিলেই চলবেনা। তিনি বলেন যে কোম্পানীর নাম ব্যবহার করে এই গ্যাস বাজারজাত করা হচ্ছে তারাও এর দায় এড়াতে পারেনা। সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল করার সময় কোম্পানীর বিশেষজ্ঞদের খতিয়ে দেখতে হবে যে প্রকৃতপক্ষে এই সিলিন্ডারগুলো তাদের কোম্পানীর কিনা।
এদিকে পুরনো গ্যাস সিলিন্ডারে রং করা হচ্ছে গোপনে এ অভিযোগ পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে রাজু ও তাজু’র কালিশংকরপুরর বাড়িতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত দেখতে পান ওই বাড়িতে বিপুল পরিমান পুরনো সিলিন্ডার মুজত করা হয়েছে। এসব সিলিন্ডারে রং’র কাজ চলছে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মাযহারুল ইসলাম তাদের ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন যারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করে তাদের মার্জনা করা যায়না। তবে শুধু অর্থদন্ডই নয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এধরনের কর্মকান্ড মোটেও বরদাস্ত করা হবেনা।

আপনার মতামত



close