রামপাল ও গ্যাসের মূল্য ইস্যু ঈদের পর মাঠে নামবে ২০ দল

টাইগার নিউজ

khaleda-dhakatimes_124943জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাকে ২০ দলীয় জোটের শরিকদলগুলোর সমর্থন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জোট বা বিএনপি প্রধান হিসেবে নয়, জাতীয় নেত্রী হিসেবে তাকে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

রবিবার রাতে খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় ঐক্যের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানান ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যের ইস্যু ছাড়াও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেয়ার ব্যাপারে ২০ দল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে জোটের নেতারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির কথা বললেও শেষ পর্যন্ত কী কর্মসূচি এবং তা কবে সেটা বিএনপির চেয়ারপারসন ঠিক করবেন। এর আগে খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন।

জোটের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হয়তো আগামী সপ্তাহে এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগের কথা জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি এলেও তিনি হজ থেকে দেশে ফিরে ঈদের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

রাত পৌনে নয়টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন জোটের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ও এর পরিপ্রেক্ষিতে জোটের শরিকদের মধ্যে সৃষ্ট সংশয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সবচেয়ে জোরালো আলোচনা হয় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবদুল কাদের সিদ্দিকী নিয়ে জোট নেতাদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে। নতুন করে কাউকে জোট আনলে জোট ছাড়ার হুঁশিয়ারির বিষয়েও কথা হয় বৈঠকে।

শরিক দলের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, এলডিপিসহ যেসব দলের নেতারা জোট ছাড়ার কথা বলেছেন খালেদা জিয়া তাদের মিডিয়াতে কথা না বলে জোটের বৈঠকে বলার আহ্বান জানান।

এদিকে জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকে জানান, খালেদা জিয়া যে আহ্বান জানিয়েছেন তা জাতীয় নেত্রী হিসেবে জানিয়েছেন। এর সঙ্গে ২০-দলের সম্পর্ক নেই। পরবর্তী সময়ে শরিক দলের নেতারা খালেদা জিয়ার এই আহ্বানকে সমর্থন জানান।

বৈঠক সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্য ও জামায়াতকে ছাড়া না ছাড়া নিয়ে আলোচনা হলেও বৈঠকে জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

বৈঠকে একজন নেতা বলেন, জামায়াত ভোটের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে বাধা। আবার যাদের সঙ্গে ঐক্যেও কথা বলা হচ্ছে তাদের শুধু ইমেজ আছে, ভোট নেই। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য জরুরি। তাই সবাইকে সতর্ক হয়ে কথা বলতে হবে।

আরেকজন নেতা বলেন, ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু জোটের শরিক কেউ আহত হন এভাবে কথা বলা ঠিক হবে না।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া বেশিরভাগ সময় চুপ ছিলেন। সভার শেষ দিকে তিনি বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য ইস্যুও দিকেও নজর দিতে হবে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, সভায় জামায়াতকে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করার সময়ের বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত প্রচার করার পরামর্শ দেয়া হয়।

এসময় জামায়াতের প্রতিনিধি আব্দুল হালিম জানান, ইতিমধ্যে তারা এ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। সামনে সচিত্র প্রতিবেদন আকারে এসব তথ্য প্রকাশ করারও চিন্তা আছে।

সূত্র জানায়, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, গ্যাসের সম্ভাব্য দামবৃদ্ধি, জঙ্গিবাদ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচিও আলোচনায় এসেছে। তবে কোনো কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। কর্মসূচি খালেদা জিয়া চূড়ান্ত করবেন। ঈদের পরেই এই কর্মসূচি আসতে পারে।

বৈঠকে জামায়াতের আব্দুল হালিম, এলডিপির অলি আহমদ, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কমরেড সাঈদ আহমেদসহ শরিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

আপনার মতামত



close