খুলনায় খোলা আকাশের নীচে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সার

Tiger Logo T
নিজস্ব প্রতিবেদক

01টানা বৃষ্টির মধ্যে খুলনার রুজভেল্ট জেটি এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন সার স্তুপ করে রাখা হয়েছে। মাসের পর মাস খোলা আকাশের নীচে থাকায় কৃষিতে অতি প্রয়োজনীয় এমওপি, টিএসপি, ডিএপি ও ইউরিয়া সার কৃষকের মাঝে বিতরনের আগেই এর গুনগত মাণ নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, গোডাউন মেরামত, ফিজিকাল ভেরিফিকেশন (সরেজমিনে যাচাই) ও সরবরাহের সুবিধার কথা বলে এসব সার গোডাউনে না রেখে ঘাট এলাকায় রাখা হয়েছে। তবে ডিলাদের দাবি কৃষকের অধিক চাহিদার টিএসপি তিউনেশিয়া সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও গোপনে এই সার বিক্রির উদ্দেশে এভাবে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র বয়রা, রুজভেল্ট ও শিরোমনিতে আটটি গোডাউনের সবগুলোতে সার রাখার পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও গত এক মাস ধরে জেটি এলাকা, বন্ধ গেট আবাসিক কলোনী, ওয়াশা গেট সংলগ্ন জায়গায় কমপক্ষে এগারটি স্তুপ করে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন সার রাখা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই স্তুপকৃত সারের চারপাশ কাদাপানিতে ছয়লাপ হয়ে সার নষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন যুগ্ম পরিচালক (সার) প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, গুদামগুলোর যে ধারন ক্ষমতা, তার চেয়ে বেশি সার আসছে। একই সঙ্গে বর্ষার সময় রাস্তাঘাট খারাপ থাকায় পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। এ কারনে সাময়িকভাবে সারগুলো গুদামের বাইরে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। সার যাতে নষ্ট না হয় এ জন্য প্রয়োজনীয় পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
সহকারি পরিচালক (সার) মোঃ কামাল উদ্দিন মোল্লা জানান, গত অর্থবছরে সার সরবরাহ পরিস্থিতির ‘ফিজিকাল ভেরিফিকেশন’ এর জন্য গুদাম ফাঁকা রাখা হয়েছে। আর এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি গুদামের মেরামত কাজ চলছিল। তিনি বলেন, মোটা পলিথিন দিয়ে সারগুলো ঢেকে রাখা হয়েছে। এ কারনে তা’ নষ্ট হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মতো এবারও খুলনায় টিএসপি তিউনেশিয়া সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দের থেকে কম সার সরবরাহ করা হয়েছে। পরে এই উদ্বৃত্ত সার সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দামে ডিলারদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে যশোর বিএডিসি বরাদ্দৃকত সার না পাওয়ার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এর আগে ২০১৫ সালে খুলনায় বিএডিসি সার গুদাম থেকে বাড়তি টাকা দিয়ে তিউনেশিয়া সার সরবরাহের অভিযোগে চার কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বিএডিসি’র সচিব মোঃ দেলওয়ার হোসেন (স্মারক নং ১২.২০৩.২৫২৯/৩৮৫৫) তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলা করেন। তবে কয়েকদফা তদন্ত হলেও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্নীতি সার নিয়ে দুর্নীতি থামেনি।

আপনার মতামত



close