১০ মেডিকেল কলেজকে কোটি টাকা করে জরিমানা

টাইগার নিউজ

cort_124824_0ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের শর্ত পূরণ না হওয়ার পরও ১৫৩ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় ১০ বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে কোটি টাকা করে জরিমানা করেছে আপিল বিভাগ।আগামী দশ দিনের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে বলেছে আদালত। আজ রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অন্য তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

১০ মেডিকেল কলেজ হচ্ছে- শমরিতা মেডিকেল কলেজ, সিটি মেডিকেল কলেজ, নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ, জয়নুল হক শিকদার মেডিকেল কলেজ, এ আর মেডিকেল কলেজ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ, তাইরুন নেছা মেডিকেল কলেজ, আইচি মেডিকেল কলেজ, কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও আশিয়ান মেডিকেল কলেজ।

আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম ও এএফএম মেসবাহ উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী খোন্দকার দিলীরুজ্জামান। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে শুনানি করেন বার কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল বাসেত মজুমদার, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাসুদ রেজা সোবহান ও আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন।

আইনজীবী খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, প্রত্যেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে এক কোটি টাকা করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকা গরিব শিক্ষার্থীদের এবং বাকি ৫০ লাখ টাকা কিডনি ফাউন্ডেশনকে দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট এসব মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চায় আপিল বিভাগ। ২১ অগাস্টের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছিল আদালত। একইসঙ্গে শর্ত অমান্য করে শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় এসব বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং কেন তাদের জরিমানা করা হবে না, তা জানতে চায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ওই ১৫৩ শিক্ষার্থীকে প্রথম পর্বের পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দেওয়ার আদেশও আদালত স্থগিত করে দিয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়,২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ২০০ এর মধ্যে ১২০ নম্বর পাওয়া ছাত্র/ছাত্রীদের ভর্তি করা যাবে এবং তাদের লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও একই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। তবে ওই শর্ত পূরণ না হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া ১৫৩ শিক্ষার্থীর প্রথম পর্বের (ফার্স্ট প্রফেশনাল এক্সামিনেশেন) রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র আটকে দেয়। এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ১৫৩ জন হাই কোর্টে রিট আবেদন করে। ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে চলতি বছরের ১৩ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয়। হাইকোর্ট রিট আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দিতে বলে।ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিভ টু আপিল আজ শুনানি হয়।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

আপনার মতামত



close