অন্যায়ের প্রতিবাদ মুমিনের দায়িত্ব

টাইগার নিউজ

fileআমরা যে সমাজে বাস করি যেখানে নানা ধরনের অন্যায় অপকর্ম হয়ে থাকে। এসবের প্রতিবাদ করা শুধু সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বই নয়, ঈমানি দায়িত্বও বটে। অন্যায় কাজ হতে দেখেও তা প্রতিহত করার চেষ্টা না করা অথবা অন্তত ঘৃণা না করা ঈমানি দুর্বলতার কারণ। ইসলামি জীবন বিধানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাকে সার্বজনীন করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি কেবল কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়; বরং এ দায়িত্ব দল-মত নির্বিশেষে সবার। একজনে অন্যায় করলে অন্য সবাই মিলে তাকে প্রতিহত করতে হবে, তাকে রুখে দিতে হবে। আবার সবাই অন্যায় করলেও একজনকে তার প্রতিবাদ করতে হবে। তবে নিশ্চয়ই তাদের প্রতিবাদ ও প্রতিহত করার ধরন হবে ভিন্ন ভিন্ন। স্থান, কাল ও অবস্থা ভেদে প্রতিবাদের পন্থা ও পদ্ধতি নির্ণয় করতে হবে। তবে কোনো অবস্থায় কেউই এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবে না।

এক হাদীসে বিষয়টিকে এভাবে বলা হয়েছে যে, তোমাদের কেউ যখন কোন অন্যায় দেখতে পায় সে যেন তা তার হাত দিয়ে (বল প্রয়োগ করে) প্রতিহত করে। যদি সে এভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম না হয় তাহলে যেন সে মুখ দিয়ে তার প্রতিবাদ করে। আর যদি সে তাও করতে সক্ষম না হয় তাহলে সে যেন তা তার অন্তঃকরণ দিয়ে (ঘৃণার মাধ্যমে) প্রতিবাদ জানায়। অর্থাৎ অন্যায়টিকে অপছন্দ করে এবং কিভাবে এই অন্যায়কে রোধ করা যায় তা মনে মনে হলেও যেন সে পরিকল্পনা আটে। আর এই সর্বশেষ অবস্থাটিকে হাদীসে ঈমানের দুর্র্বলতম অবস্থা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এটি ছোট-বড়, দল-মত, ব্যক্তি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবারই নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। কেন্দ্রীয়ভাবে এ দায়িত্ব মুসলিম সরকার প্রধানের হলেও ব্যক্তিগতভাবে কেউই এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে পারে না। হাদীসের ভাষায়- ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হতে হবে’। এছাড়া ইসলাম প্রত্যেককেই নিজের সাধ্যমত অন্যায়ের প্রতিবাদ করার দায়িত্বও প্রদান করেছে। বিশেষ করে মুসলিম সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অসৎ কাজে বাধা দেবে। অন্যায় কাজে বাধা দেয়ার বিধান থেকে যখন মুসলমানরা সরে আসে তখনই তাদের ওপর আরোপ করে দেয়া হয় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীকে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

আপনার মতামত



close