সুন্দরবনে বারবার আগুন লাগার পেছনের রহস্য!

টাইগার নিউজ

file (2)গত ১২ বছরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শুধু ধানসাগর স্টেশন এলাকায় ১৬ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। একই এলাকায় বারবার আগুন লাগে কেন?

দৈনিক সমকালে প্রকাশিত আলতাফ হোসেনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনের মধ্যে ছোট-ছোট গর্ত করে মাছের আশ্রয়স্থল ও ফাঁকা জায়গা তৈরি করে জাল পেতে মাছ ধরার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই আগুন দেওয়া হয়। এখানে নলখাগড়ার বন এবং ডোবায় জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে পানি জমে। নতুন এ পানিতে জিয়ল মাছ অর্থাৎ শিং, মাগুর, কই, গজার, শোল বা টাকি জাতীয় মাছ থাকে।

এই মাছ ধরার জন্যই নলখাগড়ার বনে আগুন লাগানো হয়। মাছ ধরার জন্য এসব বিল স্থানীয় জেলেদের কাছে বিক্রি করে আগুন বাহিনী। আর আগে থেকেই মাছের এসব অভয়াশ্রম দখল নিতেই আগুন লাগিয়ে নিজেদের আধিপত্যের জানান দেয় আগুন বাহিনী। সুন্দরবনে আগুনের নেপথ্যে মাছ শিকার।

ধানসাগর এলাকার গডফাদার মৃত মোশারেফ তালুকদারের ছেলে প্রভাব শালী কবির তালুকদার ও তার ছোট ভাই ইউপি সদস্য সুমন তালুকদার এবং উত্তর রাজাপুর এলাকার গডফাদার শাহজাহান হাওলাদার ওরফে শাহজাহান শিকারী বন বিভাগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে আবার কখনওবা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই বিলগুলো দখলে নেন। পরে তারা একেকটি বিল চার-পাঁচটি গ্রুপের কাছে মৌসুমভিত্তিক চুক্তিতে বিক্রি করে থাকেন। একেক গ্রুপে ১০-১৫ জন করে জেলে থাকেন। বিলে মাছের আধিক্য হিসেবে প্রত্যেক গ্রুপের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিয়ে নেয় আগুন বাহিনী। আর এসব বিল থেকে বছরে কোটি কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়।

চলতি মৌসুমে সুন্দরবনের নাংলি ক্যাম্পের আবদুল্লাহছিলা এলাকায় মাছ ধরার জন্য প্রথম আগুন দেওয়া হয়। আর বন বিভাগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মামলা করায় আগুন বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে পরে তুলতলা এলাকার একাধিক স্থানে অগি্নকা ঘটায়। সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তারা একাধিকবার আগুন লাগায়। তবে আগুন লাগিয়ে কয়েকজন পার পেলেও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এলাকার সাধারণ জেলে। তারা এখন বনে যেতে পারছেন না।

গত ১৪ বছরে ২২ বার আগুনে পুড়েছে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবন। গত বছরের ২১ মে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের ৬৫ ছিলায় আগুনে সাড়ে ৩ একর বন পুড়ে যায়। এতে ভস্মীভূত হয় কোটি কোটি টাকার বৃক্ষরাজি ও লতাপাতা। চলতি বছরের গত ২৭ মার্চ, ১৩, ১৮ ও ২৭ এপ্রিল চাঁদপাই রেঞ্জে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় সাড়ে ১০ একর এলাকার বনজসম্পদ পুড়ে যায়। আগুন লাগায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতিবার আগুন লাগার পর সুন্দরবন বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদের দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে আগুন লাগিয়েছে এর সুনির্দিষ্ট কারণসহ অপরাধীদের নাম-পরিচয় উঠে আসে না এসব তদন্ত রিপোর্টে। ফলে জড়িতরা সব সময় থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সূত্র :প্রিয়.কম

আপনার মতামত



close