আসামির পরিবর্তে নিরপরাধ যুবককে গেপ্তার তদন্তশেষে মুক্তির আদেশ

টাইগার নিউজ

indexচুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :: প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নিরপরাধ যুবককে ধরে আদালতে সোপর্দ করেছে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানা পুলিশ। তদন্ত শেষে এ ঘটনার সত্যতা পেয়ে নিরপরাধ যুবক আমির হামজা দিপুকে (২১) অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকেলে এ আদেশ দেন চুয়াডাঙ্গার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৫ আদালতের বিচারক তপন রায়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৪ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানার এএসআই মো. সাইদুজ্জামান জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর গ্রাম থেকে ফেনসিডিলসহ দু’যুবককে আটক করে। এরা হলো, নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার নয়ামাটি (পাগলা) গ্রামের গিয়াস উদ্দিন ভুইয়ার ছেলে মো. নাসির ভুইয়া (৩২) ও একই গ্রামের মো. আব্দুল করিমের ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন (৩২)। এ ঘটনায় আসামীদের জেল হাজতে পাঠায় আদালত। পরবর্তিতে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট থেকে (ক্রি মিছ কেস নং ৪৫৩০২/১২) ৬ মাসের জন্য অন্তবর্তিকালিন জামিন লাভ করে ওই দু’আসামি। এরপর থেকেই তারা পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার এস আই এ বি সিদ্দিক নয়ামাটি (পাগলা) গ্রামের করিম মোল্লার ছেলে আমির হামজা দিপুকে গ্রেপ্তার করে তাকে মামলার পলাতক আসামি রিয়াদ হোসেন নামে আদালতে সোপর্দ করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারী চুয়াডাঙ্গার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতে আমির হামজা দিপু ওই মামলার প্রকৃত আসামি নয় দাবি করে আদালতে অব্যাহতির আবেদন করে তার আইনজীবী। আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের পত্র পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ আমির হামজাকে নির্দোষ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান জানান, ফতুল্লা থানার এস আই এ বি সিদ্দিক এই ভুল করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়নগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর পত্রলাপ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে এস আই এ বি সিদ্দিক বলেন, আমির হামজা দিপুকে মোবাইল চুরির অপরাধে ধরে আনে কিছু মানুষ। ওইসময় সে নিজেকে রিয়াদ হোসেন বলেছিল। প্রকৃত আসামির পিতার নাম এবং গ্রাম একই হওয়ায় এই ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন এস আই এ বি সিদ্দিক।

আপনার মতামত



close