গম বীজ সঙ্কটের আশঙ্কায় চাষীরা

টাইগার নিউজ

2016_03_05_11_40_57_yIgMdaaC7fFBqVIDq5DLF5RW09yMED_originalমেহেরপুর জেলায় আবাদকৃত অধিকাংশ গম ক্ষেত ব্লাস্ট নামক ছত্রাকের আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এবার খামার ও চাষী পর্যায়ে বীজ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে আগামী মৌসুমে জেলায় গম বীজ সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় ১৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল বারি গম ২৫ থেকে ২৮ এবং প্রদীপ ও শতাব্দী জাত আবাদ হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে গম আবাদ ছাড়াও উচ্চফলনশীল গম বীজ নিশ্চিত করতে প্রদর্শনী প্লট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৮টি বীজ প্রদর্শনী প্লট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্লটে জমির পরিমাণ ১৫ বিঘা।

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উদ্যোগে চিৎলা খামারে ১৫০ এবং বারাদীতে ১২৮ একর জমিতে বীজ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু ব্লাস্টের আক্রমণে এসব প্লট বা খামার থেকে চলতি মৌসুমে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে আবাদকৃত ১৪ হাজার হেক্টরের মধ্যে ৮ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমি ব্লাস্ট ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছে।

এদিকে খামার ও চাষীদের নিজস্ব উদ্যোগ ছাড়াও বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাধ্যমে কিছু বীজ উৎপাদন করে থাকে। উৎপাদিত বীজ প্রক্রিয়াজাত করে তা বিএডিসি বিপণন বিভাগের মাধ্যমে ডিলারদের মাধ্যমে চাষীদের কাছে বিক্রি করা হয়। চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে বপণ করা হয়েছে প্রায় ১৪০ কেজি বীজ। সেক্ষেত্রে চাষকৃত ১৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে বীজ বপণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন। এবার বীজ উৎপাদন না হওয়ায় আগামী মৌসুমে এই বীজের যোগান কীভাবে হবে এবং ব্লাস্ট আক্রান্তের ভয়ে চাষীরা গম চাষ করবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

জেলা বীজ প্রত্যায়ন কর্মকর্তা ড. আখতারুজ্জামান জানান, প্রতি বছর প্রত্যায়ন অফিস থেকে বিএডিসি ও বিভিন্ন কোম্পানির বীজের প্রত্যায়ন দেয়া হয়। চলতি বছরও কয়েকটি কোম্পানি এবং বিএডিসির দুটি খামারে বীজের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রত্যায়ন চেয়েছিল। কিন্তু ক্ষেতগুলো আক্রান্ত হওয়ায় এবার প্রত্যায়ন দেয়া সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুরে বৃষ্টিপাত হয়। তার কয়েকদিন পরেই গমের পাতা ও শীষ শুকিয়ে সাদা হতে থাকে। ব্লাস্ট সন্দেহে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের দিনাজপুর গম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার মালাকারের নেতৃত্বে একটি দল জেলার বিভিন্ন মাঠের ক্ষেত পরিদর্শন করেন। তারা ব্লাস্ট ছত্রাকের আক্রমণ নিশ্চিত করে ক্ষেতে নাটিভো ও ফলিকর ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এতে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। পরে এ ছত্রাকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্বল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে ব্লাস্ট মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ চাষীদের।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, শুধু মেহেরপুরেই নয়, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া এবং যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ জেলার গম ক্ষেতে এবার ব্লাস্টের আক্রমণ হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না। অধিকাংশ গম চাষী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আগামী মৌসুমে বীজ সঙ্কটের কারণে এ অঞ্চলে গম উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সূত্র : বাংলামেইল২৪ডটকম

আপনার মতামত



close