আধুনিক পদ্ধতিতে মরিচের চাষ

টাইগার নিউজ

কৃষিবিদ মো. মারুফ মাসুম

chili_plant_282x211মাটি ও আবহাওয়া
পানি নিস্কাশন সুবিধাযুক্ত বেলে দো-আঁশ থেকে এটেল দো-আঁশ মাটিতে মরিচ চাষ করা হয়। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ উর্বর দো-আঁশ মাটি চাষাবাদের জন্য উত্তম। অমিয় মাটিতে মরিচের চাষ করা গেলেও ক্ষারীয় মাটিতে ফলন ভালো হয় না। তবে মাটিতে যদি পিএইচ ছয় থেকে সাত হয় তাহলে মরিচ খুব ভালো উৎপাদন হয়। ছায়ামুক্ত ও বৃষ্টির সময় পানি দাড়ায় না এমন জমি মরিচ চাষের উপযোগী। বন্যা বিধৌত পলি এলাকায় মাঝারী ও উঁচু ভিটা যেখানে বর্ষার পর ভাদ্র (আগষ্ট-সেপ্টেম্বর) মাসে জো অবস্থা আসে সেখানে মরিচ ভাল হয়। বিশেষ করে সেচ এলাকায় অথবা নদী, নালা, খাল বা দীঘির আশে পাশে মরিচ চাষ করা উত্তম।

মরিচ গ্রীষ্ম প্রধান জলবায়ু উপযোগী ফসল। শারীর তাত্তিক ক্রিয়ায় উষ্ণ ও আদ্র আবহাওয়া পছন্দ করে। ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে নি¤œ তাপের কারণে গাছের বৃদ্ধি কিছুটা ব্যহত হয়। অতিরিক্ত ঠান্ডায় মরিচের ঝাঁঝ কমে যায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে গাছের দৈহিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক হতে থাকে। দেশের সে সমস্ত অঞ্চলে ৭৫ সে.মি. থেকে ১০০ সে.মি. বৃষ্টিপাত হয় এবং মাঝে মাঝে রোদ ও বৃষ্টি হয়, সে সব অঞ্চলে মরিচ খুব ভালো হয়। সকালে ফুল ফোটার সময় ১০-১৬ ০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলে প্রায় ৯৫% মরিচ গাছে ফুল ও ফল হয়। ফসলের প্রাথমিক অবস্থায় অল্প বৃষ্টিপাত এবং ফসলের বৃদ্ধির সময় পরিমিত বৃষ্টিপাত হলে মরিচ খুব ভাল জন্মে। অতিরিক্ত ও পরিমাণের কম বৃষ্টিপাত মরিচের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ফুল ও ফল ধরা কমে যায় এবং অধিক আদ্রতায় ফল পচে যায়। ২০-২৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আদ্রতা শতকরা ৬৫ ভাগ এবং ৯-১০ ঘন্টা দিনের আলো মরিচের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী। ১০০ সেন্টিগ্রেডের নিম্ন তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধি ব্যহত হয় এবং ৩৭.৮০ সেন্টিগ্রেডের অধিক তাপমাত্রায় এবং বাতাসের আদ্রতা কম হলে মরিচ গাছ পানি শোষন ও প্রস্বেদনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে না ফলে এবসেশান স্তর ভেঙ্গে যায় ফলে ফুল ও কচি ফল ঝরে পড়ে। পডের পরিপক্কতার সময় শুস্ক আবহাওয়া বিরাজ করলে এর গুণগতমান ও রং অক্ষুন্ন থাকে। তাপমাত্রা খুব বেশী ও বাতাসের আদ্রতা কম হলে ফুল ও কচি ফল ঝরে পড়ে, অধিক উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রায় ফল ক্ষুদ্রাকার ও বীজহীন হতে পারে। বৃষ্টিপাতের আধিক্য ও মেঘলা আকাশে ফুল ধারনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

জাত
মরিচ একটি বিচিত্র প্রকৃতির উদ্ভিদ। তাপমাত্রা ও অঞ্চলভেদে অর্থাৎ পরিবেশের কারনে ইহার আকার, আকৃতি, বর্ণ ও ঝালের মাত্রা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। মরিচ কাঁচা অবস্থায় সবুজ নীল, কালো, ঘিয়ে ও অন্যান্য বর্ণের হয়ে থাকে। মরিচের পড পাকলে গাঢ় লাল, হলুদ, হলদে লাল, অরেঞ্জ, কালো-লাল, নীল বিভিন্ন রংয়ের হয়। বাংলাদেশে মরিচের একটি মাত্র মুক্তায়িত জাত আছে যেটি বাংলা লঙ্কা বা বারি মরিচ-১ হিসাবে পরিচিত। মরিচের ভাল ফলন পেতে হলে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করা একান্ত জরুরী। প্রচলিত জাতগুলি বহুপূর্ব থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে, ফলে জাতের বিশুদ্ধতা অনেক লোপ পেয়েছে। স্থানীয় জাতগুলো দুইভাবে চাষ করা হয়। যথা ঃ

দেশী রোপা ঝাল মরিচ
এগুলো প্রথমে বীজতলায় চারা উৎপাদন এবং ৩৫-৪৫ দিন বয়সের চারা ক্ষেতে রোপন করে চাষ করা হয়। এর মধ্যে মৌসুমী, বর্ষজীবি ও বহুবর্ষজীবি জাত রয়েছে বিধায় ফলের আকার, আকৃতি, বর্ণ, ঝাল ইত্যাদি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বোম্বাই, কামরাঙ্গা, ঘৃতকুমারী, লতা ইত্যাদি মরিচ বহুবর্ষজীবি এবং ধানী, সুর্যমুখী, বারোমাসি, পবা স্পেশাল, শিকারপুরী, পাটনাই ইত্যাদি মৌসুমী ও বর্ষজীবি রোপা মরিচের জাত।

ফলন: কাঁচা ৫.৫-৬.০ টন/হেঃ, শুকনা ১.২-১.৫ টন/হেঃ।

দেশী বোনা ঝাল মরিচ
জমিতে সরাসরি বীজ বপন করে চাষ করা হয়। এগুলি মূলতঃ মৌসুমী মরিচ, গাছ আকারে খাট, কম শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, পাকা অবস্থায় টকটকে লাল রংয়ের এবং অত্যাধিক ঝাল হয়ে থাকে। বগুড়ার বোনা, বাইন, সাইটা, বালিজুরি ইত্যাদি প্রসিদ্ধ বোনা মরিচের জাত।

ফলন
কাঁচা ৫.৫-৬.০ টন/হেঃ, শুকনা ১.১-১.৫ টন/হেঃ
তাছাড়াও শেরপুরের বালুঝুরি, মানিকগঞ্জের বিন্দু, কুমিল্লার ইরি মরিচ, মিঠা মরিচ, বালুঝুরি, নরসিংদির বাওয়া, বালিঝুরি মরিচ, পাবনার হলেন্দার, বিন্দু মরিচ, কুষ্টিয়ার গোলমরিচ, আলমডাঙ্গা মরিচ, মাগুরার টেঙ্গাখালি, জামালপুরি, মাঠউবদা (মোটা জাত, কালো জাত, সাদা জাত) মরিচ, বগুড়ার তরনি, নয়মাইল, ঝালশুকা এবং বগুড়া দীঘলা নামক জাতের চাষাবাদ হয় ও জাতের গুণাগুণ বেশ উৎকৃষ্ট।

বীজ উৎপাদন
মরিচ স্ব-পরাগায়িত জাত। যার ফলে চাষীরা সহজেই এর বীজ উৎপাদন করতে পারে। তবুও কিছু কিছু জাতে পর-পরাগায়ন হতে পারে। এ কারণে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করতে হলে বীজ ফসল আলাদা করে লাগানো উচিৎ। তবে অল্প পরিমাণে বীজের জন্য ক্ষেতের সুস্থ সবল নির্বাচিত গাছের ফুল স্ব-পরাগায়িত করে সেগুলি থেকে বীজ সংগ্রহ করা যেতে পারে। স্ব-পরাগায়নের জন্য সাদা পলিথিন ব্যাগ দিয়ে ফুল পরাগধানী বিদারনের আগেই ঢেকে দিতে হবে। তবে বীজ উৎপাদনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এই জাতের মরিচের জমির চারপাশে অন্ততঃ ৪০০ মিটারের মধ্যে অন্য কোন মরিচের জাত না থাকে। পরিপক্ক, পুষ্ট এবং উজ্জ্বল লাল রং-এর মরিচ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত একটি মরিচে ৭০-৭৫ টি বীজ থাকে এবং ১০০০টি বীজের ওজন প্রায় ৫ গ্রাম। বীজ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কলাকৌশল অনুসরণ করলে, প্রতি হেক্টরে ৮০-৮৫ কেজি বীজ উৎপাদন করা সম্ভব।

চারা উৎপাদন পদ্ধতি
ভাল চারার জন্য প্রথম বীজতলায় চারা গজিয়ে দ্বিতীয় বীজতলায় স্থানান্তর করতে হয়। প্রতিটি বীজতলা ৩ মিটার দৈর্ঘ্য, ১ মিটার প্রস্থ এবং ৪০ সে.মি. উঁচু হতে হবে। বীজতলার উপরের মাটিতে বালি ও কমপোষ্ট বা শুকনা পচা গোবর সম পরিমাণ মিশিয়ে ঝুরঝুরা করে নিতে হয়। নীরোগ চারা উৎপাদনের জন্য বপনের ৬ ঘন্টা পূর্বে ভিটাভেক্স বা ক্যাপটান (১ গ্রাম/৫০০ গ্রাম বীজ) দ্বারা বীজ শোধন করতে হয়। এই শোধিত বীজ প্রথম বীজতলায় ৫ সে.মি. দুরে দুরে সারি করে প্রতি সারি বাঁশের কাঠি দিয়ে ২-৩ সে.মি. গভীরে সরু নালা করে ঘন বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের পর বীজতলায় বীজ যাতে পোকামাকড় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেজন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম সেভিন মাটিতে মিশিয়ে দিতে হয়। বীজ বপনের পর অতিবৃষ্টি বা প্রখর রোদ থেকে রক্ষা পেতে বাঁশের চাটাই বা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হবে। সাধারণতঃ বীজ বপনের ৭-১০ দিনের মধ্যে বীজ গজায়। বীজ গজানোর পর ১০-১২ দিন বয়সের চারা উঠাতে হয় এবং সাথে সাথে দ্বিতীয় বীজ তলায় ২.৫ সে.মি. (১ ইঞ্চি) দূরত্বে চারা লাগানো হয়। ছোট এবং নরম চারা উঠানোর জন্য বীজতলায় হালকা পানি সেচ দিলে ভাল হয়। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা লাগানোর জন্য বাঁশের সরু কাঠি ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য যে চারা দ্বিতীয় বার স্থানান্তরের পর হালকা সেচ দিতে হয়। চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন হলে জমিতে লাগানোর উপযোগী হয়। এক হেক্টর জমিতে চারা লাগানোর জন্য ৮০০-১০০০ গ্রাম মরিচ বীজ প্রয়োজন।

জমি চাষ, ভিটি তৈরি ও রোপন
নির্দিষ্ট দূরত্বে উপযুক্ত মাত্রায় সুস্থ সতেজ চারা রোপন করতে হবে এবং চারা রোপন মুহুর্তে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাতে মাটিতে সহজে গাছ নিজকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। মরিচের চারা লাগানোর জন্য ১ মিটার প্রশস্ত ও লম্বায় জমির অবস্থান মতো ভিটি তৈরি করতে হবে পানি সেচ ও নিস্কাশনের সুবিধার্থে প্রত্যেক ভিটি অন্ততঃ ২০ সে.মি. উঁচু হবে ও দুই ভিটির মাঝে ৩০ সে.মি. প্রশস্ত নালা থাকবে। প্রত্যেক ভিটির উভয় পার্শ্ব হতে ৩০ সে.মি. জায়গা খালি থাকবে যাতে প্রতি ভিটায় দুই সারি চারা লাগানো যায়। এ অবস্থায় বর্ষীকালীন মরিচ চাষাবাদে সমস্যা হবে না।

মাটি ও জমির প্রকারভেদে জমিতে ৪-৬ টি চাষ ও মই দিতে হয়। প্রথম চাষে জমি গভীর ভাবে চাষ হওয়া দরকার। শেষ চাষের সময় সুপারিশকৃত পূর্ণমাত্রায় গোবর, টিএসপি, জিপসাম এবং প্রায় ১/৩ অংশ মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রতি হেক্টর জমিতে সুপারিশকৃত গোবর ও রাসায়নিক সারের মাত্রা সারণী-১ দেখানো হয়েছে।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি
সোলানেসী পরিবারভুক্ত মরিচ জমি থেকে প্রচুর খাদ্য উপাদান তুলে নেয় বলে জমিতে সুষমমাত্রায় জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। চারা রোপনের ২৫-৩০ দিন পূর্বে গোবর সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। চারা রোপণের ২৫, ৫০ এবং ৭০ দিন পর হেক্টর প্রতি নিম্নলিখিত হারে সার ভিটির মাটিতে গাছের গোড়া থেকে ১০-১৫ সে.মি. দুরে ছিটিয়ে মিশিয়ে দিতে হবে।

সারের পরিমাণ
মরিচ চাষে নিম্নরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হয়।

downloadহরমোন প্রয়োগ
প্ল্যানোফিক্স নামে এক প্রকার হরমোন প্রয়োগ করলে মরিচের ফলন বৃদ্ধি পায়। মরিচের ফুল ঝরে পড়লে এই হরমোন প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এবং প্রয়োগে ফুল কম ঝরে এবং ফলন বাড়ে। এক মিলিলিটার প্ল্যানোফিক্স ৪.৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে সমস্ত গাছের উপর ছিটিয়ে দিতে হবে। ফুল আসলে প্রথমবার এবং ২০-২৫ দিন পর দ্বিতীয়বার প্রয়োগ করতে হবে। এক হেক্টর জমিতে প্রায় ৫০০ লিটার মিশ্রণের প্রয়োজন হয়।

আন্তঃ পরিচর্যা এবং ফসলচক্র
চারা লাগানোর পরপরই হালকা পানি সেচ দিলে চারা সহজেই সতেজ হয়। জমিকে আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার ও মাটি ঝুরঝুরা করতে হয়। চারার সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য শুস্ক মৌসুমে সেচের খুবই প্রয়োজন। সেচের প্রয়োজনীয়তা মাটির পানি ধারন ক্ষমতা ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। শীত ও খরায় জমিতে ১৫ দিন অন্তর সেচ দিতে হয়। তাছাড়া প্রতি কিস্তি সার প্রয়োগের পরে সেচ দেয়া প্রয়োজন। সেচের কয়েক দিন পর মাটিতে চটা দেখা যায়। এই চটা ভেঙ্গে দিতে হবে যাতে শিকড় প্রয়োজনীয় আলো ও বাতাস পায়। এতে গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

রোগ ও পোকা-মাকড়
মরিচে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা যায়। চারা অবস্থায় ড্যাম্পিং অফ রোগ দেখা য়ায়। ৪ সে.মি. গভীরে বীজতলার উপরের মাটি ফরমালডিহাইড ৫০ গুণ পানির সাথে মিশিয়ে শোধন এবং ব্যাভিস্টিন ১ গ্রাম/কেজি হারে মিশিয়ে প্রতি কেজি বীজ শোধন করে এ রোগ দমন করা যেতে পারে।

এছাড়া মরিচ গাছ অনেক সময় আগা থেকে পর্যায়ক্রমে শুকিয়ে মারা যায় যাকে ডাইব্যাক রোগ বলে। এ রোগ দমনের জন্য ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩টি স্প্রে করতে হয়।

এ্যানথ্রাকনোজ রোগ দমনের জন্য বীজ ২ গ্রাম/কেজি ব্যাভিস্টিন দিয়ে শোধন করে বপন করা যেতে পারে। হলুদ মোজাইক ভাইরা স রোগের জন্য রোগ প্রতিরোধ জাতের পাশাপাশি রোগাক্রান্ত গাছ রোগিং করা একান্ত প্রয়োজন। থ্রিপস ও এফিডের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার জন্য ম্যালাথিয়ন ৫০ ইসি ১ মি.লি./লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম থিওভিট/ক্যালথেন মিশিয়ে ১০ দিন পর পর মরিচের চারাগাছে ৪-৫ বার স্প্রে করলে লিফকার্ল রোগের জন্য দায়ী মাইট দমন হয়।

ফসল তোলা
মরিচ কাঁচা (Green/Immature) অথবা পাকা (Red/Mature) অবস্থায় তোলা হয়। চারা লাগানোর ৩৫-৪০ দিন পর গাছে ফুল ধরতে শুরু করে, ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে ফল ধরে এবং ৭৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ফল পাকতে আরম্ভ করে। মরিচের ফুল ফোটা, ফল ধরা, রং ধারণ, তাপমাত্রা, মাটির উর্বরতা এবং ভালো জাতের উপর নির্ভর করে। উষ্ণ তাপমাত্রায় ফল তাড়াতাড়ি পাকে এবং ঠান্ডা তাপমাত্রায় ফল পাকতে দেরী হয়। অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করলে এর স্বাভাবিক উৎপাদন কয়েক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। প্রতি সপ্তাহে পাকা ফল সংগ্রহ করা যায়। কাঁচা ফল বড় ও পুষ্ট দেখে তুলতে হয়।
মরিচ তোলার পর পানি দিয়ে পরিষ্কার ও ধৌত করা উচিৎ নয়; এবং যদি করতে হয় তাহলে সেটা ১০0C ঠান্ডা তাপমাত্রায় করতে হবে। ফলগুলো সাধারণতঃ অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা, ছায়াযুক্ত এবং শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করলে এবং ২৮0C তাপমাত্রা ৬০% আপেক্ষিক আদ্রতায় ১-২ সপ্তাহে কোন ক্ষতি হয়না।

মরিচের পরিপক্ক পাকা লাল ফল গাছ থেকে তুলে, শুকিয়ে তা সংরক্ষণ করা হয়। সূর্যালোকের সাহায্যে ফল শুকানো দেশের একটি প্রচলিত পদ্ধতি। কিন্তু সতর্ক না হলে অতিরিক্ত সূর্যতাপে ফল সাদাটে রং এবং সংগ্রহকৃত ফলে বৃষ্টি বা শিশির পড়লে ফল পঁচা রোগ দেখা দেয়। সৌর চুল্লী ইতিমধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে কিন্তু প্রয়োজন পরিমিত মাত্রায় স্থির সূর্যালোক, মেঘলা আবহাওয়ায় মরিচ শুকানোর সময় বৃদ্ধি করে এবং সংগ্রহোত্তর ফসলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। মরিচ ৬৫০ঈ তাপমাত্রার গরম পানির মধ্যে ৩ মিনিট যাবৎ রাখলে ফলের Pedicel এবং Calyx ঝরে পড়ে এবং শুকানোর সময়টা হ্রাস করে ফলে মরিচের রং ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে দেয়। সাধারণতঃ জাতভেদে মরিচের পাতলা ত্বক ও শুস্ক পদার্থের পরিমাণ কম এই জাতীয় মরিচ শুকানো যায় কিন্তু পুরু মাংসল ত্বক বিশিষ্ট মরিচ শুকানো বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন। সাধারণতঃ এই জাতীয় মরিচ কাঁচা অবস্থায় বিক্রি করা হয়। ওভেনের প্রাপ্যতায় ফল শুকানোর জন্য ৬০0C তাপমাত্রায় ৮ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। সম্পূর্ণ ফল শুকানোর জন্য ৫০ 0C তাপমাত্রায় ১০ ঘন্টা ব্যাপী সময়ের প্রয়োজন।

আপনার মতামত



close