চমক দেখাতে চান খুলনার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছ

বিশেষ প্রতিবেদক

Khulna-Photo-1-(05.-11.-15)তারুণ্যের জয় জয়কার সব সময়। ওরা মেধাবী, সমাজের বড় অংশ জুড়ে অংশগ্রহনমূলক অবস্থানও শক্ত। আমিও ওদের কাতারের একজন। তাই তরুনদের জন্যে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সহয়ক হিসেবে মহানগরীতে একাধীক ওয়াইফাই জোন স্থাপন করতে চাই। এ সেবাটা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে দেয়া হবে। কথাগুলো বলছিলেন- সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আনিছুর রহমান বিশ^াস।
আনিছ বলেন- খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অসংখ্য সমস্যার মধ্যে জনবল সংকটটা মারাত্মক আকার নিয়েছে। এ কারনে নাগরিক সেবা যথাযথভাবে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। জনবলের অর্গানোগ্রাম নীতিনির্ধারণী মহলে পাঠানো হয়েছে। কনজারভেন্সি শাখাটাও এলোমেলো। নাজুক অবস্থায় আছে মহানগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। একটু বৃষ্টি হলেই শহর তলিয়ে যায়। এই তিনটি বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। বিশেষ করে নাগরিক সেবার অন্যতম কনজারভেন্সী শাখাটি ঢেলে সাজানো হবে।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছ বলেন- সিটি কর্পোরেশনের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। দলমতের উর্দ্ধে থেকে নগরবাসীর সেবক হতে চাই। দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে নয় সব কিছু বিচার হবে যোগ্যতার এটাই আমার দর্শন। আমার কার্যলয় সব সময় সবার জন্য উন্মুক্ত আগেও ছিলো এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে আধুনীক মহানগরী গড়তে চাই।
আনিছ বলেন- ১৮/১৯ বছর ধরে নগরবাসীর পাশে থেকে সেবা দিচ্ছি। নগরবাসী ভালবাসা ও আস্থার জায়গা থেকে একেবারে তরুণ বয়সে জনপ্রতিনিধির মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। তাদের আস্থার জায়গাটা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমি বিশ^াস করি জবাবদিহিতার মানষিকতা নিয়ে কাজ করতে পারলে সফলতা আসবেই। তিনি বলেন- সিটি কর্পোরেশনে আইনবর্হিভূত পুণঃনিয়োগ, কনজারভেন্সি ও প্রকৌশল শাখার এলোমেলো অবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সকল কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে সদ্য গত মেয়রকে বয়কটও করেছি। তিনি (মনিরুজ্জামান মনি) কাউন্সিলরদের কথা শুনতেন না, সময়ও দিতেন কম। আমি এর ব্যতিক্রম হবো। কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন- তরণরাই সমাজের বড় শক্তি। সবকিছু ঢেলে সাজাতে তরুনদের বিকল্প নেই। এ কারনে তরুনদের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আনিছ জহরলাল নেহেরুর ইক্তি আউড়ে বলেন- ‘আমি ক্ষুদ্র মানুষ। বৃহৎ সাধনাকে সফল করতে নিজেকে নিয়োজিত করেছি।’
আনিছুর রহমান বিশ^াস খুলনার নুর নগরের প্রশিদ্ধ বিশ্বাস বাড়ির সন্তান। তিনি ২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল মাত্র ২৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন। গত তিন টার্ম একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ছয় বার প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি খুলনা মহানগর বিএনপির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ও যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে দলীয় গ্রুপিং এর শিকার হয়ে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হন। বিভিন্ন সময় জেলজুলুমেরও শিকার হন।
জানা যায়, বর্তমানে পাঁচ বছর মেয়াদী খুলনা মহানগরীর অবকাঠাম উন্নয়ন প্রকল্পের ২০০ কোটি টাকাসহ মোট সাড়ে সাত’শ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলছে। জাতিসংঘসহ কয়েকটি বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থে নগরীর সোনাডাঙ্গা পার্কটিকে আধুনীক পার্কে রূপান্তর, রূপসা ও ভৈরব নদীর পারের প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন, শহরের মধ্যে নগরবাসীর সুবিধার্থে একাধীক বাজার স্থাপন, রূপসা ট্রলার ঘাটের উন্নয়নসহ সেখানে নগরপরিবহনের টার্মিনাল স্থাপন, সর্বপরি শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সহজতর করতে ২৬টি সেকশনে উন্নয়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া সম্প্রতি বিএমডিএফ এর ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পও অনুমোদন হয়েছে। শহরের পাশের ময়ুর নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাইপ লাইনে আছে। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ^াস বলেন- এই কাজগুলোর গুনগত মান নিশ্চিতসহ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।
প্রসঙ্গত- ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ায় গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মো. আবদুর রউফ মিয়া স্বাক্ষরিত ফ্যাক্সবার্তার মাধ্যমে খুলনা সিটি মেয়র ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মেয়র মনি ওই দিন সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯’র ১২ (২) উপধারা (১) অনুযায়ী দাপ্তরিক পত্রে প্যানেল মেয়র-১ আনিছুর রহমান বিশ্বাসকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব প্রদান করে কার্যালয় ত্যাগ করেন।

আপনার মতামত



close