সবজির চারা উৎপাদনে ভাগ্য বদল

টাইগার নিউজ

2015_11_05_10_00_51_kKWJwlzl7YPPbf6TA3Efy5I5wYFPAe_originalআসছে শীত। নানা জাতের সবুজ শাক-সবজিতে ভরে উঠবে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। এ সবুজ বিপ্লবের মূল উৎস চারা উৎপাদনের হচ্ছে কুমিল্লার ময়নামতি সংলগ্ন শমেষপুরসহ কয়েকটি গ্রাম। আর এ চারা উৎপাদনের নেপথ্যে কারিগর এসব গ্রামের সাধারণ চাষীরা। শীতকে সামনে রেখে বীজতলা নিয়ে রাত দিন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ময়নামতি ইউনিয়নের শমেষপুরের চারা চাষীরা।

বুড়িচংয়ের ময়নামতি ইউনিয়নের শমেষপুর, কালাকচুয়া, ঢাকলাপাড়া, ডুবাাইরচর গ্রামের কুষকরা কয়েক যুগ ধরে চারা উৎপাদন করে আসছেন। এ চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এ যেন সবুজ বিপ্লবের এক তীর্থস্থান।

সিলেট-চট্টগ্রামসহ দেশের অন্তত ১০টি জেলায় উৎপাদিত শীতকালীন, ফুল কপি, বাঁধা কপি, বেগুন, টমেটো, মরিচের চারা যোগান দিচ্ছেন এ ইউনিয়নে চাষীরা। প্রতি মৌসূমে এ ইউনিয়নেই উৎপাদন করা হয় প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার সবজি চারা। এসব চারা থেকে উৎপন্ন হয় শত কোটি টাকার শীতকালীন সবজি। এক কথায় চারা উৎপাদ এনে দিয়েছে এখানকার চাষীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। বদলেছে কৃষকদের জীবনধারা ও আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট।

2015_11_05_10_00_49_4KPDMuipeK3Iq9ReNW2B3jnwfegLwV_originalসবকিছুর পরও চারা উৎপাদনে রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতা। প্রতি মৌসূমে ৩/৪ বার বীজতলা করে চারা বিক্রি হলেও কখনো প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে ২দফার বেশি চারা উৎপাদন সম্ভব হয় না। তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখনও অনুকুলে থাকায় চারার মান ভালো এবং বাজার দরও বেশি তারা।

শ্রাবণ থেকে কার্তিক মাস চারা উৎপাদনের আসল সময়। এ সময় ব্যস্ততায় কাটে চাষীদের।

ইউনিয়নের যে কয়েকটি গ্রামে চারার চাষ হয় এর মধ্যে শমেষপুর উল্লেখযোগ্য। গ্রামের অন্যতম প্রবীন চাষী মো. মোকশত আলী জানালেন, শমেষপুর গ্রামে কপির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে। তবে আশির দশকে এসে এখানকার চারার ব্যাপক খ্যাতি লাভ করে।

প্রথমে কৃষক পর্যায়ে চারা উৎপাদন সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন গোটা গ্রামবাসীর অন্যতম পেশায় পরিণত হয়েছে এটি। গ্রামের প্রায় সব পরিবারই এখন চারা ব্যবসার যুক্ত। মৌসুমি এ ব্যবসা বদলে দিয়েছে গ্রামবাসীর জীবন জীবিকা।

চলতি বছর শমেশপুর গ্রামের অন্তত ৫০ একর এলাকা জুড়ে তৈরী করা হয়েছে সবজি চারা উৎপাদনের বীজতলা। আশির দশকের গোড়ার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতির শমেশপুর গ্রামে মাত্র কয়েকজন চাষীর সবজি চারার উৎপাদন শুরু করে। শুরুতে চারা উৎপাদন মুষ্টিমেয় কৃষক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও, ধারাবাহিক সফলতায় বিস্তৃতি লাভ করেছে পুরো গ্রামে।

বর্তমানে শমেশপুর ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। কালাকচুয়া, ঢাকলাপাড়া, ডুবাইচর থেকে শুরু করে নিমসার এলাকায়ও গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক সবজি চারার বীজতলা। তবে শীতকালীন সবজি চারার জন্য শমেষপুর নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। তবে, কৃষিবিভাগের পরামর্শ পেলে আরো ভালো করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমানে শমেষপুর গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমিতে কপির চারা চাষ হয়। এখানকার চারার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। গ্রামের পাহাড়ি মাটি চারা উৎপাদনের খুবই উপযোগী, অনুকুল আবহাওয়া পেলে চারার বাম্পার ফলন হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে ৫০-৬০ হাজার চারা উৎপন্ন হয়।

চারা ব্যবসায়ী মোতাহের মিয়াসহ কৃষকদের দেয়া তথ্য মতে, এখানে ৮ থেকে ১০ জাতের চারা উৎপাদন হয়। তার মধ্যে কপির চারার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। গোমতীর তীরবর্তী এ এলাকার পাহাড়ি মাটি চারা উৎপাদনে বেশ উপযোগী। এখান থেকে উৎপাদিত শীতকালীন সবজির চারা যাচ্ছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত অন্তত ১০টি জেলায়।

চলতি মৌসুমের শুরুতে চারার বাজার দরে বেশ খুশি। শেষ পর্যন্ত বাজার এমন থাকলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন বলে জানান।

সবজি চারা বদলে দিয়েছে এ এলাকার অধিবাসীদের জীবনধারা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত চারা ব্যবসার সঙ্গে। শীতের আগমনে ব্যস্ত ময়নামতি পাহাড়তলীর গ্রাম শমেশপুরের কৃষকের সাফল্যে অনেকেই অনুপ্রাণিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

শমেষপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রেমা সিডসের সত্ত্বাধিকারী মো. আবদুল মান্নান জানালেন, এখানে উৎপাদিত কয়েকটি উন্নত জাতের মূলাসহ বিভিন্ন সবজির বীজ বিদেশ থেকে আমদানি হয়ে আসে। প্রতিকেজি বীজের মূল ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এখানকার চারা উৎপাদনকারীরা বিদেশ থেকে আমদানি করা বীজের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেকসময় বীজ সঙ্কটে উৎপাদন ব্যহত হয়। এসব বীজ দেশে উৎপাদন করা গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁচানো সম্ভব।

সূত্র : বাংলামেইল২৪ডটকম

আপনার মতামত



close