নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবে কে?

ড. সরদার এম. আনছিুর রহমান

unnamed (4)গ্রাম বাংলায় বহুল প্রচলতি একটি প্রবাদ আছে ‘নজিরে খয়েে বনরে মষ তাড়ানো, কংিবা ‘নজিরে খয়েে অন্যরে পথরে কাঁটা সরানাে’। জানা নইে, প্রবাদটি কােন প্রক্ষোপটে কখন প্রচলতি হয়, তবে এর ব্যবহার যে বশ্বিরে দশেে দশেে বভিন্নি ভাষাভাষী মানুষরে মধ্যে রয়ছেে এতে কোনো সন্দহে নইে।

তবে এ কাজটি কন্তিু বশেরিভাগ সময় মানুষ জনেে শোনে করে থাক।ে সটো হতে পারে দশেপ্রমে, দায়ত্বিবোধ কংিবা মানবকিতাবোধ থকে।ে রাজনীততিে অবশ্য এর প্রক্ষোপট ভন্নি।

এবার আমাদরে দশেে বাস্তবইে ঘটলাে সটো। কভিাবে হলাে- কারা করলাে? এ বষিয়টি বলার আগে নজিরে খয়েে বনরে মষ তাড়ানোর কছিু প্রাসঙ্গকি কথার অবতারণা করতে চাই।

ইকােহামা, যারা এই শহরটতিে বসবাস করছনে কংিবা বসবাসরে অভজ্ঞিতা রয়ছেে তারা এ বষিয়ে বশে ওয়াকবিহাল। স্কুল-কলজে ছুটরি দনিরে সকালে চােখে পড়ে স্কুল-কলজেরে ছলেমেয়েরো ড্রসে পরে রাস্তা পরষ্কিার করছ।ে

বলতে পারনে ইকােহামা কি কােনাে দরদ্রি শহর?না, বশ্বিরে উন্নত দশে জাপানরে একটি শহর। তাহল,ে স্কুলরে ছলেমেয়েদেরে রাস্তা পরষ্কিার করতে হব?ে এখানইে বষিয়টরি নগিুঢ় রহস্য- ছােট কচকিাঁচা বাচ্চা আর কশিােরী শক্ষর্িাথীরা কতই না আগ্রহ নয়িে গাছরে পাতা, কাগজ আর অন্যান্য ময়লা প্লাস্টকিরে ব্যাগে করে নয়িে যাচ্ছ,ে যনে তারা নজিদেরে বাড়রি বাগান কংিবা স্কুল আঙ্গনিা পরষ্কিার করছ!ে এটা তাদরে একদনিরে কংিবা চাপয়িে দয়ো কােনাে কাজ নয়, সপ্তাহরে প্রত্যকে ছুটরি দনিরে কাজ। এ তাে বললাম ইকােহামার কথা, জাপানরে অন্যান্য শহররে চত্রি। শুধু জাপান কনে, ইউরােপ আমরেকিার অনকে দশেরে রাস্তায় এমন চত্রি লক্ষ্যনীয়।

জাপান, কানাডা, আমরেকিা ও নদোরল্যান্ডস’র মতো ধনী দশেরে ছলেমেয়েরো রাস্তা পরষ্কিার করে কনে? তাও আবার ক্লাসরে দনি নয়, ছুটরি দনিে দল বঁেধ।ে যদেনি তাদরে পরবিাররে সঙ্গে সময় কাটানোর কথা, ঘুরাফরোর কথা!ওইসব নগররে পরচ্ছিন্ন র্কমচারীরা তো নয়িমতি শহর পরষ্কিার করছইে, তবুও স্কুলরে ছাত্রছাত্রী কনে?

এর মাধ্যমে তারা তাদরে দশেকে ভালবাসতে শখে,ে তাদরে ভতের দায়ত্বিবোধ তরৈি কর,ে যনে তারা নজিরো রাস্তা ময়লা না কর।েএর মাধ্যমে টমিওর্য়াক তরৈি হয়, যনে একে অপররে সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মলিয়িে কাজ করতে পার।েএর ভতের দয়িে এক ধরনরে ওনারশপি তরৈি হয়। যার মাধ্যমে তাদরে মধ্যে দায়ত্বিবােধ আর দশেপ্রমে আর বশেি জাগ্রত হয়। সটো কী বাংলাদশেরে মানুষরে ভতের আছ?ে বলতে গলেে এখানে এর বপিরীত চত্রি।

অন্য শহররে কথা কনে, এইত ক’দনি আগে আমাদরে রাজধানী শহর ঢাকায় ঘটে গলে বশে মজার একটি বষিয়। জাপানরে এশয়িা-প্যাসফিকি বশ্বিবদ্যিালয়রে মাত্র সাতজন ছাত্রছাত্রী বাংলাদশেে থাকাকালীন ঢাকা শহররে ময়লা পরষ্কিাররে কাজে নমেে পড়।ে পাঁচ দনিে রাজধানীর পাঁচটি বনানী, গুলশান, র্ফামগটে, আসাদগটে ও গাবতলী এলাকায় তারা এই অভযিান চালায়। বষিয়টি তমেন কছিুই না- শুধু এক জোড়া গ্লাভস এবং ময়লা ফলোর ব্যাগ নয়িে রাস্তায় নমেে পড়া। কন্তিু এই সামান্য বষিয়টইি অসংখ্য মানুষরে হৃদয় ছুঁয়ছে।ে

ফসেবুকে আমরা তাদরে র্কাযক্রমকে অভনিন্দন জানালাম।কয়কেটি পত্রকিায় বশে বড় ছবওি ছাপা হয়। টলেভিশিন টকশােতে ব্যাপক আলােচনাও হয় বশে।তাতে ক?ি

আর আমরা কি করলাম, চারদকিে ঘরিে দাঁড়য়িে দাঁড়য়িে তাদরে কাজ দখেলাম, ভড়ি করলাম। কউে কউে নজিদেরে মোবাইল দয়িে ছবি তুলে তা ফসেবুকে শয়োর করলাম আর সইে ছবগিুলো নয়িে বশে আলােচনা হলাে। এরপরও কি আমাদরে মানসকিতার কােনাে পরর্বিতন হয়ছে?ে না, মনে কােনাে ক্রয়িা-প্রতক্রিয়িার সৃষ্টি হয়ছে?ে না, হয়ন।ি কনে হয়নি কংিবা হচ্ছে না, এর জবাব অনকে গভীর।ে আমাদরে শক্ষিা, সংস্কৃতি ও পরবিশে শশিুদরে সভোবে গড়ছে না।আমরা বড়রা তাদরে উল্টাে পথে হাঁটতে শকিাচ্ছ।ি

এইত তনিদনি আগে সকালে ঘুম থকেে উঠে মহাখালীর নকিতেনবাজার এলাকার রাস্তায় হাঁটছলিাম, হঠাৎ উপর থকেে আমার গাঁয়ে পরলো ময়লা।কি যে বব্রিতকর অবস্থা! সাত তলা ভবনরে কাকে অভযিুক্ত করবাে আর কার কাছইে বা এই অভযিোগ দবিো? মনরে ক্ষোভ নবিারণ করে কোনো মতে বাসায় ফরিে জামা পরর্বিতন করলাম।এইতো আমাদরে সমাজ, আমাদরে সচতেনতা!

বাংলাভাষায় আরকেটি প্রবাদ আছে নজিরে পায়ে কুড়াল মরেে অন্যরে ক্ষতি করতে সদ্ধিহস্ত। র্অথাৎ মনরে অজ্ঞান্তইে আমরা যে কভিাবে নজিদেরেকে ধ্বংস করছ,ি তা আমরা নজিরোই জানি না। আমরা যারা রাষ্ট্র-সমাজরে দায়ত্বিশীল র্পযায়ে অবস্থান করছি তারা কি চন্তিা করছ-ি আমরা কি বলছ,ি সত্য না মথ্যিা? আমরা কি করছি বধৈ না অবধৈ? ফলে আজ যখোনে আমাদরে রাজনীতবিদিরা মথ্যিাচার, হানাহানতিে লপ্তি সখোনে শশিুরা কি শখিব?ে কনেনা, যাদরে কাছ থকেে দশেপ্রমে শখোর কথা, তারাই তাে দশেপ্রমেকি নন। যাদরে দায়ত্বিশীলতা দখেে শশিু-কশিােরদরে মনে দায়ত্বিবােধ জাগ্রত হবার কথা তারাই তাে দায়ত্বিহীনতার পরচিয় দচ্ছিনে। র্সবত্রই প্রতহিংিসা আর হানাহানরি বষিবাষ্প ছড়ছ।ে ফলে কােন গন্তব্যে এগুচ্ছে বাংলাদশে তাও আমরা জানি না।

লেখক : গবেষক ও কলাম লেখক। ই-মেইল-sarderanis@gmail.com।

আপনার মতামত



close