রাজশাহীর বিখ্যাত নকশি- কাঁথার গল্প

টিটো, রাজশাহী

download (1)কবির কবিতার মতো রাজশাহী তানোর উপজেলায় বাধাইড় বদলপুর গ্রামের নারীরা মনের মাধুরী মিশিয়ে তাদের নিপুন হাতে তৈরী করা নকশিকাঁথায় ফুটিয়ে তোলেন নানা বিচিত্র রকমের চিত্র। আর সেইসব কাঁথার কারুকাজের মধ্যে লুকিয়ে থাকে কবির কবিতার বর্ণনায় মন ছুঁয়ে যাওয়া অনেক দৃশ্য।গ্রামটি দেখতে মনে হয় নকশিকাঁথার গ্রাম। গ্রামের বেশিরভাগ নারীরা নকশিকাঁথা সেলাই করে বাড়তি আয় করে থাকেন। নকশিকাঁথা হলো সাধারন কাঁথার উপর নানা ধরনের নকশা করা বিশেষ কাঁথা। সাধারনত পুরাতন কাপড়ের পাড় থেকে সুতা অথবা তাঁতীদের কাছে থেকে লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, বিভিন্ন সুতা ক্রয় করে এ কাপড় সেলাই করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনের আগে থেকে এই নকশিকাঁথার প্রচলন ছিল কিন্ত বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নকশিকাঁথা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত পড়ে। এ কাঁথা বাংলাদেশের লোকশিল্পর একটি অংশ। নকশিকাঁথা সৌখিন একটি কাঁথা এক সময় এই কাঁথা সেলাই করতে তিন চার মাস সময় লাগতে কারন অবসর সময়ে নারীরা সেলাই করত । কিন্ত এখন ব্যাণিজীক ভাবে এই কাঁথা সেলাই করা হচ্ছে। বর্তমানে বেশিরভাগ নারী পেশা হিসেবে নকশিকাঁথাকে নিয়েছেন। আর ্এই কাজের বিনিময়ে তারা যে পরিমান মজুরি পান তাদিয়ে ছেলে-মেয়েদের লিখা পড়া ও সংসারের জিনিস পত্র কিনে থাকেন। দীর্ঘ ১১ বছর আগে তানোর উপজেলার বদলপুর গ্রামে বউ হয়ে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কালিনগর গ্রামের গোলেনুর বেগম। বিয়ের পর থেকে তিনি বাবার বাড়ি কালিনগর থেকে নকশিকাঁথা এনে কাজ করতেন। সেই শুরু এরপর থেকে গ্রামের অন্য নারীরা উৎসাহিত হয়। বর্তমানে গ্রামের কিশোরী থেকে মধ্য বয়সী শতাধিক নারী নকশিকাঁথার কাজ করছেন।

একটি কাঁথা সেলায়ের কাজ শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। আর একটি কাঁথা সেলাই কওে মজুরি পান ৭০০/ ৮০০ টাকা। কাঁথা সেলাই কওে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী নয় তারা। নিজের পুজি না থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কালিসগর গ্রামের নকশিকাঁথা ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে যাবতীয় উপকরন নিয়ে এনে কাজ করতে হয়।
সরেজমিনে গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামের বেশিভাগ বাড়ির উঠনে বসে একসঙ্গে কয়েকজন নারী নকশিকাঁথা সেলাই করছেন।
গ্রামের শিক্ষার্থী গৃহবধু নারীরা কাঁথায় সুই- সুতা দিয়ে নকশি তুলতে ব্যস্ত। কাজের ফাঁকে তাদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, মাস শেষে একটি কাঁথা সেলাই করতে পারলে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পান তারা। একটি কাঁথায় ৪ থেকে ৬ হাত নকশা ছাপানো থাকে। চাহিদা অনুযায়ী মহানজরা তাদের নকশা এঁকে দেয়। তারা শুধু হাতে সুঁই- সুতার নকশি তুলে দেয়।
রাজশাহীর বিখ্যাত নকশি- কাঁথার গল্প

আপনার মতামত



close