রাজশাহীর বিসিকে সর্ববৃহৎ গার্মেন্ট কারখানা তৈরী হচ্ছে

টাইগার নিউজ

টিটো. রাজশাহী. ২৮ সেপ্টেম্বর ::নানা প্রতিকূলতার কারণে রাজশাহীতে শিল্প কারখানা নির্মাণে মুখ ফেরাতেন উদ্যোক্তারা। এ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শিল্প কারখানায় পিছিয়ে পড়া আর অবহেলিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে রাজশাহী। তবে এই অপবাদ ঘুচতে যাচ্ছে। এবারই প্রথম রাজশাহীতে গড়ে উঠছে গার্মেন্ট কারখানার মতো বড় ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া কার তৈরির মতো বড় প্রতিষ্ঠান নির্মাণেরও প্রস্তুতি চলছে। দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘এনা গ্রুপ’ রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের বেকারত্ব ঘোঁচাতে এসব কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগমারা আসনের সাংসদ ও এনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে রাজশাহীতে আরো বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
রাজশাহী মহানগরীর বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে তোলা হচ্ছে এসব কারখানা। বিশেষ করে শতভাগ রফতানিমুখী সোয়েটার কারখানাটি আগামী বছরের শুরুর দিক থেকে উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করেছেন এনা গ্রুপের কর্মকর্তারা। আর এই সোয়েটার কারখানা প্রতিষ্ঠার পর অন্তত ২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহানগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় ‘সাকোয়াটেক্স’ নামের সোয়েটার কারখানাটি তৈরি হচ্ছে সপুরা শিল্ক শো-রুমের পাশে। এরই মধ্যে কারখানাটির ছয় তলা ভবন নির্মাণ কাজ অনেকটা এগিয়েছে। কারখানাটি তৈরির জন্য জাপানের সিমা সেইকি কোম্পানি থেকে ক্যাকার্ড ও কেনিটিং মেশিন আমদানির চুক্তি করেছে এনা গ্রুপ।
এদিকে, ২০০৮ সালের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে গার্মেন্ট কারাখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে মেয়র প্রার্থীরা অঙ্গীকার করেছিলেন। এরপর থেকে মূলত রাজশাহীতে গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার ধারণা শুরু হয়। তবে সেটি বাস্তবে রূপ লাভ করেনি নানা প্রতিকূলতার কারণে। এর অন্যতম সমস্যা ছিলো গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য যে গ্যাস প্রয়োজন সেটি রাজশাহীতে ছিল না। ২০১৩ সালের ৭ জুন রাজশাহী মহানগরীতে গ্যাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর কিছুদিন আগে থেকে শিল্প কারখানায় গ্যাসের সংযোগ দিতে শুরু করে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি। এর মধ্যে সাতটি কারখানায় সংযোগ দেয়া হয়েছে। আরো সাতটি প্রতিষ্ঠান সংযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল) কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় শিল্প প্রসারের লক্ষ্যে রাজশাহীর শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে রাজশাহীতে শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংযোগের অনুমতি দেয়া হয়। এরপর থেকে রাজশাহীতে ছোট ও মাঝারি আকারে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করে। গত ৮ মার্চ থেকে মহানগরীর বিসিক শিল্প কারখানায় নিটল-নিলয় গ্রুপের উদ্যোগে দেশের প্রথম হিউম্যান হলার তৈরি শুরু হয়।
এদিকে, বিসিকের দেয়া তথ্য মতে, বিসিক শিল্প নগরীতে আরো শিল্প কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৫০ একর জমির ওপর রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণের প্রস্তাব সম্বলিত ডিপিপি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। সে মোতাবেক ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৩০৮টি নতুন শিল্প প্লট তৈরি হবে। যার মাধ্যমে পাঁচ হাজার নতুন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
এ ব্যাপারে এনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক জানান, এই শিল্প কারখানাটি হবে রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের me©cÖ_g বৃহৎ গার্মেন্ট কারখানা। এখান থেকে বর্তমানে প্রতিমাসে প্রায় দেড় লাখ সোয়েটার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। যা পh¨vয়ক্রমে ১০ লাখ পh¨šÍ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাবে। এ কারখানাটিতে সবমিলিয়ে প্রায় দুই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। আর এটি চালু হওয়ার পর থেকে উত্তরাঞ্চলের জন্য এই কারখানাটি মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আপনার মতামত



close