সমাজে নারীদের পিছিয়ে রেখে জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়

টাইগার নিউজ

News Photo from Rupantar-03-09-15নিজস্ব প্রতিবেদক :: খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুস সামাদ বলেছেন, সমাজে নারীদের পিছিয়ে রেখে জাতির অগ্রগতি কোনদিন সম্ভব নয়। নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুবিয়ে রোধ, নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতির এগিয়ে যাওয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করতে সকলকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার রূপান্তর আয়োজিত “ইউপি’র সাধারণ আসনে নারীর প্রার্থীতা : সমস্যা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক এক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড কোঅপারেশন-এসডিসি’র সহযোগিতায় খুলনা মহানগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং কোঅপারেশন-এর পরিচালক বিয়াতে কে এলসিজার। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান। অতিথি ছিলেন সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড কোঅপারেশন-এসডিসি’র সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন লুবনা এবং নারী বিকাশ কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির সভানেত্রী এ্যাডভোকেট অলোনন্দা দাস। এতে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন। রূপান্তর-এর কর্মসূচী সমন্বয়কারী অসীম আনন্দ দাসের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনা পর্বের সহায়ক ছিলেন সুন্দরবন একাডেমীর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নিরাপত্তা, কথা বলার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। গত ৫০ বছরে দেশে নারী পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও এখনো তারা অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে আছেন। এই অবস্থা কারো কাম্য হতে পারে না। একটু সুযোগ, সহায়তা পেলে নারীরা প্রমাণ করতে পারেন যে তারা কোন ক্ষেত্রেই পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে নেই। এখন শুধু আমাদের উচিত হবে নারীর অগ্রযাত্রায় সহায়ক হিসেবে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন ভূমিকা পালন করা।
ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং কোঅপারেশন-এর পরিচালক বিয়াতে কে এলসিজার তার স্মানিত অতিথির ভাষণে বলেন, তার দেশ তিনটি ক্ষেত্রের উন্নয়নে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে- দক্ষতা উন্নয়ন, বাজার উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা বাস্তবায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক ভাল করেছে। আগামীতে জাতিসংঘ ২০৩০ সালকে লক্ষ্য করে যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি নির্ধারণ করছে সেখান্ওে বাংলাদেশ অনেক ভাল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি নারীর জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং কন্ঠকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাবার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারের ধারণাপত্রে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে সংরক্ষিত আসনের বাইরে সাধারণ আসনের নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণে কোন বাধা না থাকলেও দেশব্যাপী প্রচলিত ধারণাটি হচ্ছে, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন, সাধারণ আসন নয়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, রাজনৈতিক সমর্থন। ইউপি নির্বাচন অরাজনৈতিক বলা হলেও এটি এখন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল আগ্রহের কারণে দলীয় প্রার্থীদের প্রধান্যই বেশি। ফলে নির্দলীয় নারী প্রার্থীরা রাজনৈতিক দলগুলোর বৈরীতার সম্মুখীন হচ্ছেন। নারীরা যাতে সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে সেমিনারে কতিপয় সুপারিশ পেশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সর্বমোট ৩২ জন আলোচক। এদের মধ্যে রয়েছেন দাকোপ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড় ও এ্যাডভোকেট সুভদ্রা সরকার, বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, বুলু রাণী রায়, রামপাল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হোসনে আরা মিলি, মোংলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার হাই, ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাবু, সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আবুল কালাম আজাদ, বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন, দাকোপ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মাহমুদ হোসেন, রামপালের উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিলারা খানম, বটিয়াঘাটার ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ আসনে বিজয়ী নারী মেম্বর মর্জিনা বেগম, সাবেক জনপ্রতিনিধি শেখ যুবরাজ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে নরী নেতৃবৃন্দ, বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, নাগরিক নেতৃবৃন্দ, উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ বক্তৃতা করেন।

আপনার মতামত



close